সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

This time, instead of Brazil, Lima will shout for their own “Haiti”.

ইউরো বাংলা ডেস্ক কয়েক দশক ধরে বিশ্বকাপের মঞ্চে ব্রাজিলের সমর্থনে প্রতিটি টেলিভিশন এবং রেডিওর সামনে জড়ো হয়েছেন হাইতির ফুটবল ভক্তরা। হলুদ-সবুজ জার্সি গায়ে জড়িয়ে ‘সেলেসাও’দের

ইউরো বাংলা ডেস্ক


কয়েক দশক ধরে বিশ্বকাপের মঞ্চে ব্রাজিলের সমর্থনে প্রতিটি টেলিভিশন এবং রেডিওর সামনে জড়ো হয়েছেন হাইতির ফুটবল ভক্তরা। হলুদ-সবুজ জার্সি গায়ে জড়িয়ে ‘সেলেসাও’দের দিয়েছেন আকুণ্ঠ সমর্থন। কিন্তু এই বছর হাইতির ফুটবল চিত্রটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। এবার আর অন্য কোনো দেশের জন্য নয়, হাইতিয়ানরা মেতেছেন নিজেদের দেশের ফুটবল বন্দনায়।

১৯৭৪ সালের পর এই প্রথম হাইতি বৈশ্বিক এই মহোৎসবে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। আর তা নিয়ে ক্যারিবীয় এই দ্বীপরাষ্ট্রটির মানুষের মধ্যে উত্তেজনা এখন উপচে পড়ছে। রাজধানীর ধুলোবালিভরা খালি জায়গায় কিংবা রাস্তার মোড়ে আচমকাই শুরু হয়ে যাচ্ছে ফুটবল খেলা। পাড়ার অলিতে-গলিতে নিজ দেশের দলের খেলোয়াড়দের নাম খোদাই করা জার্সি বিক্রির ধুম পড়েছে, যা দিন দিন বেড়েই চলেছে।

হাইতির জাতীয় ফুটবল দল যারা ফুটবল বিশ্বে ‘গ্রেনাডিয়ার্স’ নামে পরিচিত, তারা মরক্কো, স্কটল্যান্ড এবং ব্রাজিলের সঙ্গে গ্রুপ ‘সি’ থেকে নিজেদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে। আগামী ১৯ জুন ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামে এক মহাকাব্যিক লড়াইয়ে মাঠে নামবে তারা। সেদিন তাদের প্রতিপক্ষ আর কেউ নয়, স্বয়ং তাদের দীর্ঘদিনের ফুটবল আইডল ও ভালোবাসার দল ব্রাজিল।

সম্প্রতি রাজধানী পোর্ট-আউ-প্রিন্সের একটি খানাখন্দে ভরা রাস্তায় ফুটবল খেলতে দেখা গেছে ১৬ বছর বয়সী কিশোর গেরিয়ার লিমাকে। নুন আনতে পান্তা ফুরানো জীবনের প্রতিচ্ছবি যেন ফুটে উঠছিল তার পায়ে এক পায়ে ছিল স্নিকার এবং অন্য পায়ে প্লাস্টিকের স্লাইড জুতো। রাস্তার মাঝে গোলপোস্ট হিসেবে ব্যবহার করা পাথরের মাঝখান দিয়ে গোল দেওয়ার জন্য সে ছিল উন্মুখ।

খেলা শেষে হাসিমুখে বার্তা সংস্থা এপি-কে লিমা বলছিল, আমার প্রিয় দল ব্রাজিল, কিন্তু আমার দেশ এখন বিশ্বকাপে খেলছে। ব্রাজিল এখন আমার কাছে দ্বিতীয় পছন্দ। আমার পরিবার আমাকে কোনো ক্লাবে পাঠানোর বা প্রশিক্ষণের খরচ বহন করার সামর্থ্য রাখে না, তবে আমি যেকোনো উপায়ে একটি ক্লাবে জায়গা করে নেওয়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছি।

লিমার পছন্দের তালিকায় রয়েছেন ব্রাজিলের সাবেক কিংবদন্তি ফুটবলার কাকা। তবে তার বর্তমান স্বপ্নের নায়ক হলেন ইরানের এস্তেঘলাল ফুটবল ক্লাবের ফরোয়ার্ড ও হাইতির শীর্ষ গোলদাতা ডুকেন্স নাজোন। লিমার ভাষায়, আমি ডুকেন্স নাজোন হতে চাই, টুর্নামেন্টে হাইতির প্রতিনিধিত্ব করতে চাই। ব্রাজিল অবশ্যই ভালো, কিন্তু এবার আমি আমার হাইতিয়ান ভাইদের পাশে দাঁড়াবো, তাদের জন্যই গলা ফাটাবো।

লিমার মতো হাইতির লাখো ফুটবল ভক্তের গল্প এখন একই সুতোয় গাঁথা। ১৯ জুনের সেই ঐতিহাসিক ম্যাচের দিকে তাকিয়ে এখন পুরো হাইতি। প্রিয় আইডল ব্রাজিলের মুখোমুখি হয়ে নিজেদের ‘গ্রেনাডিয়ার্স’রা বিশ্বমঞ্চে কেমন লড়াই করে, তা দেখতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে পুরো দেশ।

আরও পড়ুন