সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

Chinmoy Krishna Das not granted bail; yesterday order in four cases

দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর ধরে কারান্তরালে রয়েছেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী। চট্টগ্রামের আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলাসহ বেশ কয়েকটি গুরুতর মামলায় তাঁকে অভিযুক্ত করা

দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর ধরে কারান্তরালে রয়েছেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী। চট্টগ্রামের আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলাসহ বেশ কয়েকটি গুরুতর মামলায় তাঁকে অভিযুক্ত করা হলেও, দীর্ঘ এই সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর চূড়ান্ত প্রমাণ বা বিচারিক নিষ্পত্তি না হওয়ায় জনমনে এবং আইনি মহলে মানবিক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে, যে ঘটনার সময় তিনি পুলিশি হেফাজতে ছিলেন, সেই ঘটনায় তাঁকে ‘প্রধান আসামি’ হিসেবে অভিযুক্ত করে দীর্ঘকাল আটকে রাখাকে তাঁর মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন অনুসারীরা।

২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর যখন আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, তখন চিন্ময় কৃষ্ণ দাস স্বয়ং আদালত ও পুলিশের নিরাপত্তামূলক হেফাজতে ছিলেন। তাঁর আইনজীবীদের দাবি, শারীরিক ও টেকনিক্যালি একজন ব্যক্তি যখন রাষ্ট্রের কড়া পাহারায় থাকেন, তখন বাইরের কোনো সংঘর্ষ বা হত্যাকাণ্ডে তাঁর সরাসরি সম্পৃক্ত থাকা অসম্ভব। অথচ এই মামলায় তাঁকে ১ নম্বর আসামি করা হয়েছে। যা মানবিক ও আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে তাঁর প্রতি অবিচার বলে মনে করছেন তাঁর স্বজনরা।

প্রায় ১৮ মাস ধরে কারাগারে বন্দি থাকায় চিন্ময় দাসের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটেছে বলে তাঁর পরিবার সূত্রে জানা গেছে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া এবং জামিন বারবার নাকচ হওয়া একজন নাগরিকের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও চরম চাপ সৃষ্টি করে। তাঁর সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মতে, তদন্তের প্রয়োজনে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলেও, দীর্ঘ সময় চার্জশিটভুক্ত বন্দী হিসেবে রাখা তাঁকে দণ্ডিত হওয়ার আগেই সাজা ভোগ করানোর শামিল।

চিন্ময় দাসের অনুসারীদের দাবি, তিনি সবসময় শান্তিকামী ও আধ্যাত্মিক চর্চার সাথে যুক্ত ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে আনা রাষ্ট্রদ্রোহ বা জমি দখলের মতো অভিযোগগুলো রাজনৈতিক বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হতে পারে বলে তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। বিশেষ করে, ইসকন থেকে বহিষ্কার এবং পরবর্তীতে নানা আইনি জটিলতায় তাঁর ব্যক্তিগত ও সামাজিক মর্যাদা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মানবিক দিক বিবেচনায়, অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার আগ পর্যন্ত তাঁকে জামিনে মুক্তি দেওয়া এবং পরিবারের সান্নিধ্যে থাকার সুযোগ দেওয়া উচিত বলে মনে করেন মানবাধিকার কর্মীরা।

আজ রোববার (১০ মে) হাইকোর্টে তাঁর জামিন আবেদন আবারও নাকচ হওয়ায় তাঁর পরিবার ও আইনজীবীরা হতাশ। তবে কাল সোমবার বাকি চারটি মামলায় আদেশের অপেক্ষায় রয়েছেন তাঁরা। তাঁদের প্রত্যাশা, রাষ্ট্র ও আদালত মানবিক দিকটি বিবেচনা করবে। অপরাধী যে-ই হোক, তাঁর বিচার হওয়া প্রয়োজন তবে নির্দোষ কেউ যেন কেবল অভিযোগের ভিত্তিতে দীর্ঘ সময় কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে জীবন না হারায়, সেটাই এখন বড় প্রার্থনা।

যেকোনো হত্যাকাণ্ডের বিচার হওয়া জরুরি। কিন্তু একইসাথে একজন বন্দীর মানবাধিকার এবং তাঁর আইনি সুরক্ষার বিষয়টিও রাষ্ট্রের নিশ্চিত করা প্রয়োজন। চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের ক্ষেত্রে দীর্ঘ এই কারাবাস কি প্রকৃত ন্যায়বিচার, নাকি মানবিক অধিকারের লংঘন সেই প্রশ্নটিই এখন বড় হয়ে দেখা দিচ্ছে।

আরও পড়ুন