সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

Aslam Chowdhury clapped his hands on the head of expelled Juba Dal leader Rokon in the jungle Salimpur.

ইউরো বাংলা ডেস্ক চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল জঙ্গল সলিমপুরের একাধিক মামলার আসামি ও দল থেকে সদ্য বহিষ্কৃত যুবদল নেতা রোকন উদ্দিনের (রোকন মেম্বার) মাথায়

ইউরো বাংলা ডেস্ক


চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল জঙ্গল সলিমপুরের একাধিক মামলার আসামি ও দল থেকে সদ্য বহিষ্কৃত যুবদল নেতা রোকন উদ্দিনের (রোকন মেম্বার) মাথায় হাত বুলিয়ে বিএনপি নেতা লায়ন আসলাম চৌধুরীর দোয়া করার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দা ও নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র সমালোচনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

সম্প্রতি ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ছবি ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়। ছবিতে দেখা যায়, চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা লায়ন আসলাম চৌধুরী জঙ্গল সলিমপুরের বিতর্কিত নেতা রোকন মেম্বারের মাথায় হাত রেখে দোয়া করছেন।

নেটিজেন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ অভিযোগ তুলছেন যে, জঙ্গল সলিমপুরের অস্ত্রভাণ্ডার নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি ও পাহাড় দখলকারী হিসেবে অভিযুক্ত একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসীকে এভাবে রাজনৈতিক শীর্ষ নেতৃত্ব কর্তৃক জনসমক্ষে আশীর্বাদ দেওয়া অপরাধীদের আরও বেপরোয়া করবে। তবে রোকন মেম্বারের অনুসারীদের দাবি, রোকন উদ্দিন অসুস্থ থাকায় মানবিক খাতিরে প্রবীণ এই নেতা তাকে দেখতে গিয়েছিলেন এবং এটি কোনো রাজনৈতিক প্রশ্রয় নয়।

সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরের আলিনগর এলাকায় অভ্যন্তরীণ কোন্দল, সরকারি খাস জমি দখল এবং পাল্টাপাল্টি সশস্ত্র হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটি রোকন উদ্দিনকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে। তিনি চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

স্থানীয়দের তথ্যমতে, জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় মূলত দুটি সন্ত্রাসী পক্ষ সক্রিয়। একটি পক্ষের নেতৃত্বে আছেন রোকন মেম্বার এবং অন্য পক্ষে আছেন মো. ইয়াসিন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ইয়াসিন স্থানীয় সাবেক এমপির আশ্রয়ে থাকলেও পটপরিবর্তনের পর রোকন ও ইয়াসিন উভয়েই নিজেদের বিএনপির অনুসারী হিসেবে পরিচয় দেওয়া শুরু করেন।

রোকন মেম্বারের বিরুদ্ধে এলাকায় চাঁদাবাজি, অবৈধ অস্ত্র প্রদর্শন এবং পাহাড় কাটার একাধিক মামলা রয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে এই এলাকায় দুই পক্ষের দ্বন্দ্বের জেরে অভিযান চালাতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলায় একজন র‍্যাব সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে।আসলাম চৌধুরীর অবস্থানএই বিতর্ক নিয়ে এর আগে গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরী দাবি করেছিলেন, জঙ্গল সলিমপুরে তাঁর ব্যক্তিগত কোনো অনুসারী বা ‘বাহিনী’ নেই। সলিমপুরের কোনো অপরাধমূলক বা দখলদারিত্বের ঘটনার সঙ্গে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব জড়িত নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তবে নতুন করে এই ছবি ফাঁসের পর সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

ছবিটি এমন এক সময়ে ভাইরাল হলো যখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় প্রশাসন জঙ্গল সলিমপুর এলাকা সম্পূর্ণ অপরাধমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে। চট্টগ্রামের পুলিশ প্রশাসন স্পষ্ট হুশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, জঙ্গল সলিমপুরে আর কোনো “ইয়াসিন বাহিনী” বা “রোকন বাহিনী” চলতে দেওয়া হবে না, সেখানে শুধু রাষ্ট্রের বাহিনী থাকবে। অপরাধীদের আখড়া ভেঙে দিয়ে পুরো এলাকাকে সম্পূর্ণ সন্ত্রাসমুক্ত করা হবে। জঙ্গল সলিমপুরের বিশাল খাস জমিতে পুলিশ একাডেমি, র‍্যাব ট্রেনিং সেন্টার ও কারাগারসহ একটি সমন্বিত সরকারি প্রশাসনিক হাব গড়ে তোলা হবে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা জঙ্গল সলিমপুরের সকল অপরাধীর তালিকা তৈরি করে শিগগিরই বড় ধরনের যৌথ অভিযান বা কম্বিং অপারেশন চালানো হবে।

আরও পড়ুন