সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

Energy sector is the main driving force to realize the dream of trillion dollar economy: State Minister Amit

বৈদেশিক নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেছেন, দেশের শিল্পায়ন, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির

বৈদেশিক নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেছেন, দেশের শিল্পায়ন, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির স্বপ্ন বাস্তবায়নে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ খাতই হবে মূল চালিকাশক্তি।

বুধবার (২০ মে) গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার কামতা-২ নম্বর কূপের স্পাড-ইন কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ছাড়া কোনো দেশের শিল্পখাত টেকসইভাবে এগিয়ে যেতে পারে না। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৫৭০টি শিল্পকারখানা গ্যাস সংযোগের অপেক্ষায় রয়েছে। এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ হয়েছে হাজার হাজার কোটি টাকা। কিন্তু প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহের অভাবে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি বলেন, “আমরা যদি এসব শিল্পকারখানায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারি, তাহলে লাখো মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। শিল্প উৎপাদন বাড়বে, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। এর মাধ্যমে রাষ্ট্রের ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।”

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার এমন একটি অবস্থানে পৌঁছাতে চায় যেখানে জ্বালানির চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে কোনো ধরনের ঘাটতি থাকবে না। সে লক্ষ্যেই নতুন গ্যাস কূপ খননের পাশাপাশি পুরোনো কূপগুলো সচল ও উৎপাদনক্ষম রাখতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, কামতা-২ কূপ এবং তিতাসের আরও তিনটি কূপসহ মোট চারটি কূপ থেকে আগামী বছরের জুন মাসের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৫৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে সরকার আশাবাদী।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, “পূর্ববর্তী সরকারগুলো দেশীয় প্রতিষ্ঠান ও দক্ষ জনবলকে যথাযথ গুরুত্ব দেয়নি। অথচ আমাদের দেশের প্রকৌশলী, ভূতত্ত্ববিদ ও কারিগরি কর্মকর্তারা অত্যন্ত মেধাবী, উচ্চশিক্ষিত এবং দক্ষ। আমরা এখন দেশীয় দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে জ্বালানি খাতকে আরও শক্তিশালী করতে চাই।”

তিনি আরও বলেন, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন কার্যক্রম জোরদার করা গেলে আমদানিনির্ভরতা অনেকাংশে কমে আসবে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কমবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, নতুন কূপ খনন ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে আগামী কয়েক বছরে দেশের জ্বালানি খাতে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে।

কূপ খনন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পেট্রোবাংলা–এর চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মান্নান, পরিচালক (অর্থ) এ কে এম মিজানুর রহমান, পরিচালক (অপারেশন্স অ্যান্ড মাইনসমো) মো. রফিকুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. আব্দুল জলিল, বিজিএফসিএল–এর প্রকৌশলী এ কে এম জসীম উদ্দিন, সিসিডিসি’র ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাসহ জ্বালানি খাতের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীরা।

আরও পড়ুন