সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

Raksu GS Salahuddin Ammar asked Daksu leader to bring his daughter along

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু)-এর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মারের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। একটি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু)-এর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মারের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের সর্বোচ্চ পদের মতো দায়িত্বশীল জায়গায় থাকা নেতার এমন বক্তব্যকে ‘নারীবিরোধী’ ও ‘ভোগ্য-পণ্যবাদী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ’ বলে আখ্যা দিচ্ছেন সাধারণ নেটিজেনরা।

সম্প্রতি পিকিং ইউনিভার্সিটির এক শিক্ষার্থীর সাথে একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেন ডাকসুর সাবেক এক নেত্রী। সেই পোস্টের কমেন্ট বক্সে রাকসু জিএস সালাউদ্দিন আম্মার মন্তব্য করেন, “নিয়ে আসেন আমার জন্য।”

স্বতন্ত্র প্যানেল ‘আধিপত্যবিরোধী ঐক্য’ থেকে নির্বাচিত এই শীর্ষ ছাত্রনেতার এমন মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিন্দার ঝড় উঠেছে। সচেতন নেটিজেন এবং প্রগতিশীল ছাত্রনেতারা এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে বলছেন, এ ধরনের বক্তব্য নারীদের স্বাধীন অস্তিত্বকে অস্বীকার করে এবং তাদের স্রেফ ‘ভোগ্য পণ্য’ হিসেবে উপস্থাপন করে।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, নারী কি ভোগ্য পণ্য যে নিয়ে আসবে? এই যদি হয় বাংলাদেশের বৃহৎ একটা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের নির্বাচিত জিএস-এর বক্তব্য এবং মানসিকতা, তাইলে এই দেশে রেইপ কেন হবে না তো কোন দেশে হবে বলেন?? প্রতিটি হাদি ব্যবসায়ী কমান্ডারের সেইম মানসিকতা।

সমালোচকদের মতে, দেশের অন্যতম শীর্ষ বিদ্যাপীঠের ছাত্র সংসদের নেতৃত্ব দেওয়া ব্যক্তিদের কাছ থেকে যেখানে জেন্ডার সমতা, নারীর নিরাপত্তা এবং প্রগতিশীল চিন্তার বিকাশ আশা করা হয়, সেখানে তাদের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য সমাজে নারীর প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিকে আরও উস্কে দেয়। এই ধরনের মানসিকতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ ও ছাত্ররাজনীতির মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে অনুষ্ঠিত রাকসু নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্ল্যাটফর্ম থেকে জিএস নির্বাচিত হন সালাউদ্দিন আম্মার। নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই শিক্ষকদের পদত্যাগ দাবি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও মন্তব্যের কারণে তিনি একাধিকবার ক্যাম্পাসে ছাত্রদলসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের সমালোচনার মুখে পড়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই এই সাম্প্রতিক মন্তব্যের জন্য তার প্রকাশ্য ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন