সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

Motab Sheikh, who raised questions about citizenship, is now an MLA

ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটা গিয়েছিল ‘বিদেশি’ সন্দেহে। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে নিজের ভোটাধিকার ফিরে পেতে দ্বারস্থ হতে হয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট ও ট্রাইব্যুনালের। সেই লড়াইয়ে

ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটা গিয়েছিল ‘বিদেশি’ সন্দেহে। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে নিজের ভোটাধিকার ফিরে পেতে দ্বারস্থ হতে হয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট ও ট্রাইব্যুনালের। সেই লড়াইয়ে জয়ী হওয়ার মাত্র ১৮ দিনের মাথায় এবার নির্বাচনী ময়দানেও বাজিমাত করলেন মুর্শিদাবাদের মোতাব শেখ। ফারাক্কা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে কংগ্রেসের টিকিটে জয়ী হয়ে এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেছেন ৫৮ বছর বয়সী এই রাজনীতিক।

সোমবার ঘোষিত নির্বাচনী ফলাফলে দেখা গেছে, মোতাব শেখ ৮ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি প্রার্থী সুধীর চৌধুরীকে পরাজিত করেছেন। এবারের নির্বাচনে রাজ্যে কংগ্রেসের ফলাফল বিপর্যয়ের মধ্যেও যে দুজন প্রার্থী জয়ী হয়েছেন, মোতাব শেখ তাঁদের অন্যতম।

পশ্চিমবঙ্গে ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার সময় নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে মোতাব শেখের নাম তালিকা থেকে বাদ দেয় নির্বাচন কমিশন। দমে না গিয়ে তিনি উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন। দীর্ঘ শুনানির পর গত ৫ এপ্রিল আপিল ট্রাইব্যুনাল তাঁকে বৈধ ভোটার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেয়। এসআইআর সংক্রান্ত বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া এটিই প্রথম মামলা।

কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানম তাঁর আদেশে স্পষ্ট জানান যে, নির্বাচন কমিশন মোতাব শেখের নাম বাদ দেওয়ার সপক্ষে কোনো জোরালো যুক্তি দিতে পারেনি। বিচারপতি বলেন, শুনানির সময় কমিশন কেবল ‘প্রযুক্তিগত কারণ’ দেখিয়েছিল। অথচ মোতাব শেখের পাসপোর্ট ছিল তাঁর নাগরিকত্বের অকাট্য প্রমাণ এবং তাঁর নথিপত্রে কোনো অসঙ্গতি ছিল না।

আদালতের রায় পাওয়ার পর হাতে সময় ছিল যৎসামান্য। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার একেবারে শেষ দিনে প্রার্থী হিসেবে নাম লেখান মোতাব। মাত্র ১৮ দিনের প্রচারণায় ভোটারদের মন জয় করে বিধানসভার টিকিট নিশ্চিত করেন তিনি।

এবারের নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর-এর নামে প্রায় ৯১ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। মোতাব শেখের এই জয় কেবল একটি রাজনৈতিক দলের জয় নয়, বরং সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার রক্ষার লড়াইয়ের এক বড় প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখনও লক্ষ লক্ষ মানুষের মামলা ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন থাকলেও, মোতাব শেখের এই জয় তাঁদের কাছে আশার আলো হয়ে দেখা দিয়েছে।

মুর্শিদাবাদের রাজনৈতিক মহলের মতে, মোতাব শেখের এই জয় প্রমাণ করল যে আইনি লড়াই ও জনসমর্থন একসাথে থাকলে যেকোনো প্রতিকূলতা জয় করা সম্ভব। মোতাব শেখ এখন কেবল একজন বিধায়ক নন, তিনি নাগরিকত্ব ও ভোটাধিকার রক্ষার লড়াইয়ের এক জীবন্ত বিজ্ঞাপন।

আরও পড়ুন