সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

The team hotel controversy is discussed more than the women’s safe field

ইউরো বাংলা ডেস্ক হ্যাটট্রিক সাফ জয়ের গৌরব অর্জনের মিশন নিয়ে ভারতে অবস্থান করছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। গোয়ার জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে মাঠে


ইউরো বাংলা ডেস্ক


হ্যাটট্রিক সাফ জয়ের গৌরব অর্জনের মিশন নিয়ে ভারতে অবস্থান করছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। গোয়ার জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামার অপেক্ষায় যখন লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা, তখন মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়েও বেশি চর্চায় পরিণত হয়েছে টিম হোটেলের এক বিতর্কিত কাণ্ড। বাংলাদেশ দলের ম্যানেজার খালিদ মাহমুদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশ দলের ম্যানেজারের বিরুদ্ধে টিম হোটেলে মদ্যপানের অভিযোগ উঠলেও, দক্ষিণ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের (সাফ) পক্ষ থেকে বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে। সাফ জানিয়েছে, এই বিতর্কের মূল কারণ অ্যালকোহল বা মদ নয়, বরং সমস্যা তৈরি হয়েছে মেডিক্যাল রুম সংক্রান্ত জটিলতাকে ঘিরে।

রবিবার (৩১ মে) নেপাল ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার ম্যাচ চলাকালীন এ বিষয়ে সাফের সাধারণ সম্পাদক পুরুষোত্তম কাট্টালের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি সংস্থার অবস্থান পরিষ্কার করেন। পুরুষোত্তম বলেন, অ্যালকোহল বা মদ জিনিসটা এখানে মুখ্য নয়, মূল বিষয় হলো মেডিক্যাল রুম। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে এই মুহূর্তে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সঙ্গে সাফের নিবিড় অভ্যন্তরীণ আলোচনা চলছে। বিষয়টি নিয়ে বাইরে কোনো রকম জলঘোলা করতে রাজি নয় দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের এই নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

পুরুষোত্তম আরও জানান, তারা নিজেদের মধ্যেই ব্যাপারটির একটি সম্মানজনক মীমাংসা করতে চান। বর্তমানে এই ঘটনার তদন্ত চলায় সংবেদনশীল এই বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বাইরের কারও কাছে কোনো মন্তব্য করতে চান না তিনি। তবে বাফুফেকে দেওয়া চিঠির পেছনের মূল কারণ যে মেডিক্যাল রুম সংক্রান্ত জটিলতা, তা তিনি নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্ত টিম ম্যানেজার খালিদ মাহমুদ নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বলেন, আমরা তিন দল (বাংলাদেশ, ভারত ও নেপাল) একই হোটেলে থাকি। সব দলের জন্যই আলাদা মেডিক্যাল রুম আছে। আমাদের মেডিক্যাল রুম ব্যবহারের সময় ছিল দুপুর ১২টা। কিন্তু সেটা পেতে পেতে বিকেল ৫টা বেজে যায়। এ জন্য আমার সঙ্গে সাফের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কথা-কাটাকাটি হয়। মূলত এটা নিয়েই সমস্যা তৈরি হয়েছে।

খালিদ মাহমুদ আয়োজকদের অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলে আরও বলেন, শুধু মেডিক্যাল রুম নয়, আমরা গোয়ায় আসার পর থেকে অনুশীলন মাঠসহ নানা বিষয় নিয়ে বাধা-বিপত্তির সম্মুখীন হয়েছি। আমাদের বাজে মাঠে অনুশীলন করতে হয়েছে। এসব কারণে বিভিন্ন সময়ে সাফের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমার কথা-কাটাকাটি হয়েছে।

উল্লেখ্য, থাইল্যান্ডে নিবিড় প্রস্তুতি পর্ব শেষে ভারতে যাওয়ার পর বর্তমানে গোয়ার প্ল্যানেট হলিউড বিচ রিসোর্টে অবস্থান করছে বাংলাদেশ দল। সেখানে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হওয়ায় মারিয়া-আনিকাদের পক্ষে প্রতিবাদী ভূমিকা নেন টিম ম্যানেজার, যা সাফ কর্তৃপক্ষ সহজভাবে নেয়নি।

সাফ কর্তৃপক্ষের চিঠি পাওয়ার পর বাফুফের সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষার বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছি। কিন্তু এখন যেহেতু খেলা চলছে, তাই আমি চাই না খেলার মাঝখানে অন্য কোনো ইস্যু আসুক। আগে খেলা শেষ হোক, তারপর আমরা বিষয়টি দেখব।

চিঠির মূল অভিযোগের বিষয়ে তুষার আরও যোগ করেন, এক্সাক্ট যদি বলেন, আমরা আমাদের মেডিক্যাল রুম পাইনি। টিম ম্যানেজার এটার জন্য মেইলও পাঠিয়েছেন। তবে এ ব্যাপারে এই মুহূর্তে এর বেশি মন্তব্য করতে চাচ্ছি না।

বাফুফের মিডিয়া বিভাগে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন খালিদ মাহমুদ নারী দলের সর্বশেষ তিনটি সফরে ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করছেন। তবে মাঠের বাইরে ম্যানেজমেন্টের এমন টানাপোড়েন আর অভ্যন্তরীণ তদন্তের আবহে আজ স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে মর্যাদার ম্যাচে দলকে কতটা প্রভাবমুক্ত রাখা যায়, সেটিই এখন বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

আরও পড়ুন