সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

India increased its nuclear weapons, leaving behind Pakistan-Israel

বিশ্বের পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলোর মধ্যে ভারতের পারমাণবিক অস্ত্রের সম্ভার আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এসআইপিআরআই/সিপরি) ২০২৬ সালের সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের

বিশ্বের পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলোর মধ্যে ভারতের পারমাণবিক অস্ত্রের সম্ভার আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এসআইপিআরআই/সিপরি) ২০২৬ সালের সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের পারমাণবিক বোমার (ওয়ারহেড) সংখ্যা ১৮০টি থেকে বেড়ে এখন প্রায় ১৯০টিতে দাঁড়িয়েছে।

এর মাধ্যমে পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যার দিক থেকে পাকিস্তান, উত্তর কোরিয়া ও ইসরায়েলকে ছাড়িয়ে গেছে ভারত।

চলতি বছরের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সিপরি জানিয়েছে, বর্তমানে ভারতের হাতে সচল বা মোতায়েনকৃত পারমাণবিক বোমা রয়েছে ১২টি এবং সংরক্ষিত রয়েছে ১৭৮টি; অর্থাৎ সব মিলিয়ে মোট মজুত ১৯০টি। এর বিপরীতে দেশটির চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের পারমাণবিক ওয়ারহেডের সংখ্যা ১৭০টি। তবে এই অঞ্চলে পারমাণবিক অস্ত্রের দিক থেকে ভারতের চেয়ে অনেক এগিয়ে রয়েছে চীন, যাদের হাতে বর্তমানে রয়েছে ৬২০টি ওয়ারহেড।

দীর্ঘদিনের সামরিক কৌশল ও পারমাণবিক নীতি ভেঙে এবারই প্রথম শান্তির সময়েও ১২টি পারমাণবিক বোমা পুরোপুরি মোতায়েন রেখেছে ভারত। সিপরির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এতদিন প্রচলিত ধারণা ছিল যে ভারত শান্তির সময়ে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বা অন্য কোনও উৎক্ষেপণ ব্যবস্থার সঙ্গে পারমাণবিক বোমা যুক্ত না করে আলাদাভাবে সংরক্ষণ করে। তবে সম্প্রতি ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকে ক্যানিস্টারে রাখা এবং সমুদ্রে পারমাণবিক সাবমেরিনের মাধ্যমে নিয়মিত টহল দেওয়ার পদক্ষেপগুলো ইঙ্গিত করে, ভারত শান্তির সময়েও কিছু ওয়ারহেডকে সরাসরি উৎক্ষেপণ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার নীতিতে হাঁটছে। মূলত একে অপরকে সামরিকভাবে প্রতিহত বা নিরস্ত (Deterrence) করতেই দুই প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তান তাদের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার বজায় রেখেছে।

বর্তমানে বিশ্বের মোট পারমাণবিক অস্ত্র মূলত ৯টি দেশের হাতে পুঞ্জীভূত রয়েছে। তবে এর সিংহভাগই রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক অস্ত্রের ভাণ্ডার রয়েছে রাশিয়ার কাছে। তাদের মোট পারমাণবিক বোমার সংখ্যা প্রায় ৫ হাজার ৪২০টি। এর মধ্যে সামরিক ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত রয়েছে ৪ হাজার ৪০০টি, যার মধ্যে আবার ১ হাজার ৭৯৬টি বোমা সরাসরি মোতায়েন বা সচল রয়েছে।

রাশিয়ার ঠিক পরেই রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির মোট ওয়ারহেডের সংখ্যা ৫ হাজার ৪২টি। এর মধ্যে সামরিক মজুত ৩ হাজার ৭০০টি এবং সরাসরি মোতায়েন রয়েছে প্রায় ১ হাজার ৭৭০টি।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন তাদের পারমাণবিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছে। বর্তমানে বেইজিংয়ের মোট ওয়ারহেডের সংখ্যা প্রায় ৬২০টি। ইউরোপের দেশ ফ্রান্সের মোট পারমাণবিক বোমার সংখ্যা প্রায় ৩৭০টি এবং তাদের সামরিক মজুত ২৯০টি। অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের হাতে রয়েছে আনুমানিক ২২৫টি পারমাণবিক বোমা।

বিশ্বের পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলোর তালিকার একেবারে নিচের দিকে রয়েছে বাকি দুটি দেশ। মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র পারমাণবিক শক্তিধর দেশ ইসরায়েলের কাছে আনুমানিক ৯০টি এবং কিম জং উনের উত্তর কোরিয়ার কাছে প্রায় ৬০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে বলে সিপরির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন