বিএনপি সরকারের প্রথম ১০০ দিনে ২০০ উদ্যোগ ও প্রকল্প গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। সরকারের দাবি, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে জনজীবন ও সমাজে ইতোমধ্যে দৃশ্যমান প্রভাব পড়তে শুরু করেছে এবং জাতির সামনে নতুন আশাবাদ ও ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তা পৌঁছেছে।
বুধবার (২৭ মে) সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক ই-বুকে সরকারের এই ১০০ দিনের কার্যক্রম, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ ও অর্জনের চিত্র তুলে ধরা হয়। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানায়, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ই-বুকটি নিয়মিত হালনাগাদ করা হবে।
ই-বুকে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম ১০০ দিন ছিল দিকনির্ধারণ, প্রশাসনিক পুনর্গঠন এবং জনগণের আস্থা পুনর্গঠনের সময়। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ, জ্বালানি সংকট, কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতা ও দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার মধ্যেও সরকার দ্রুত জনমুখী ও নীতিনির্ধারণমূলক বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
ই-বুকে উল্লেখ করা হয়, সরকারের কার্যক্রমে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সামাজিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা, প্রশাসনিক ও বিচারব্যবস্থায় ডিজিটাল সংস্কার এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত পরিকল্পনা।
সরকারের আলোচিত উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, কৃষিঋণ মওকুফ, স্পোর্টস কার্ড, ই-হেলথ কার্ড, ডিজিটাল ভূমিসেবা, ই-বেইলবন্ড, খাল পুনঃখনন, ইমাম-মুয়াজ্জিন ও বিভিন্ন ধর্মীয় গুরুদের আর্থিক সম্মানী, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং শিক্ষা ও তরুণদের জন্য নতুন কর্মসূচি।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত ও প্রশাসনিক কিছু সিদ্ধান্তও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে বলে ই-বুকে উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রীয় প্রটোকল সীমিত রাখা, সরকারি ব্যয়ে সংযম, মাঠপর্যায়ের সমস্যা দ্রুত সমাধানের নির্দেশনা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা।
তবে সরকার স্বীকার করেছে, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, জ্বালানি নিরাপত্তা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ এবং দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার বাস্তবায়ন এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, “নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিকে বাস্তব কর্মপরিকল্পনায় রূপ দেওয়ার মাধ্যমেই নেতৃত্বের মূল্যায়ন হয়। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই দেশজুড়ে নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে।”
ই-বুকে আরও বলা হয়, “গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকট, বিনিয়োগ স্থবিরতা, কর্মসংস্থানের ঘাটতি ও প্রশাসনিক দুর্বলতাসহ একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়। তবে প্রথম ১০০ দিনে নীতিনির্ধারণে দ্রুততা, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ফেরানোর ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে।”