সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

Dr. Writ in High Court demanding investigation of financial irregularities and contracts against Yunus

সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে আর্থিক অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘সংবিধানপরিপন্থী’ বাণিজ্য চুক্তির অভিযোগ তদন্তে একটি স্বাধীন কমিশন

সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে আর্থিক অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘সংবিধানপরিপন্থী’ বাণিজ্য চুক্তির অভিযোগ তদন্তে একটি স্বাধীন কমিশন গঠনের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। গত ২৯ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুহাম্মদ মুহসিন রশিদ হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিটটি আবেদন করেন।

গতকাল সোমবার বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে রিটটি উপস্থাপিত হয়। শুনানি শেষে আদালত রিটটি আগামী রবিবার (১০ মে) কার্যতালিকায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

রিট আবেদনে ড. ইউনূসের শাসনামলে গৃহীত বেশ কিছু পদক্ষেপকে বেআইনি ও জবাবদিহিতাহীন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ করা হয়েছে, সরকারপ্রধান থাকাকালীন ড. ইউনূস অবৈধভাবে নিজের এবং তাঁর সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে থাকা ৩৮টি আয়কর সংক্রান্ত রিট ও রেফারেন্স মামলা প্রত্যাহার করিয়েছেন।

রিটে দাবি করা হয়েছে, এসব মামলায় কর ফাঁকির পরিমাণ ছিল ১১১ কোটি ১৭ লাখ ৪৯ হাজার ১১২ টাকা। এছাড়া তাঁর একটি প্রতিষ্ঠানের আরও ৬৬৬ কোটি টাকার কর দায় মওকুফ করানো হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের ক্ষমতা ব্যবহার করে জনশক্তি রপ্তানি, ডিজিটাল ওয়ালেট অপারেশন এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লাইসেন্সসহ নানা সুযোগ-সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ আনা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে স্বাক্ষরিত পারস্পরিক বাণিজ্যিক চুক্তিকে দেশের স্বার্থ ও সংবিধানপরিপন্থী বলে দাবি করা হয়েছে।

আবেদনকারী আইনজীবী মুহাম্মদ মুহসিন রশিদ সাংবাদিকদের বলেন, কোনো ব্যক্তিই আইনের ঊর্ধ্বে নন। ড. ইউনূসের এসব কর্মকাণ্ড কেবল প্রতিষ্ঠিত আইনি নীতির পরিপন্থীই নয়, বরং দেশের জবাবদিহিতা ও আইনের শাসনের মৌলিক ভিত্তিকে আঘাত করেছে। আইনের শাসন টিকিয়ে রাখার স্বার্থে এসব কর্মকাণ্ডের পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। আর এজন্য একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করা অপরিহার্য।

এই রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও দুই আইন সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে। কেন এই স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করা হবে না—তা জানতে চেয়ে রুল জারির প্রার্থনা করা হয়েছে। আগামী রবিবার হাইকোর্টের তালিকায় আসার পর রিটটির ওপর বিস্তারিত শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সাবেক সরকারপ্রধানের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর আর্থিক ও রাষ্ট্রীয় অভিযোগের আইনি প্রক্রিয়া এখন জনমহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

আরও পড়ুন