সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

Allegation of sexual harassment against the teacher in Yabi Prabi

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের মনিরুল ইসলাম নামে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। একটি শিক্ষা সফর

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের মনিরুল ইসলাম নামে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। একটি শিক্ষা সফর চলাকালে সংঘটিত এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তজনা বিরাজ করছে। তবে ঘটনার বিচার পাওয়ার বদলে উল্টো ভুক্তভোগীকে নানাভাবে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে।

অভিযোগ অনুযায়ী, বিভাগের স্টাডি ট্যুর চলাকালে ওই শিক্ষক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি ও যৌন হয়রানি করেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর সাধারণ শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। তবে অভিযোগ উঠেছে, অভিযুক্ত শিক্ষক জামায়াতপন্থি বলয়ের হওয়ায় ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

ক্যাম্পাসে আলোচনা রয়েছে যে, অভিযুক্ত শিক্ষক জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় আমীর ডা. শফিকুর রহমানের ঘনিষ্ঠ এবং সাবেক উপাচার্য ড. মজিদের আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত। পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মনিরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের অর্থ সম্পাদক ছিলো তৎকালীন সময়ে। তিনি যবিপ্রবির পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। এই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে দাবি করেছেন শিক্ষক- কর্মকর্তাদের একাংশ।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের হওয়ায় তাকে বিচার পাইয়ে দেওয়ার বদলে উল্টো সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা চলছে। অভিযোগ উঠেছে, ওই ছাত্রীকে ‘ইসকন’ ট্যাগ দিয়ে এবং শিক্ষা জীবন ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে চুপ করিয়ে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। একটি গণতান্ত্রিক ও মুক্তবুদ্ধি চর্চার বিদ্যাপীঠে এমন সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগের ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ।

এত বড় একটি অভিযোগ ওঠার পরও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান বা কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষোভ আরও বাড়ছে। কোনো নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন না হওয়াকে প্রশাসনের ‘গড়িমসি’ হিসেবে দেখছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

এঘটনায় একাধিক শিক্ষার্থী বলছেন, অবিলম্বে একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করা। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা ও শিক্ষাজীবনের নিশ্চয়তা প্রদান করা। যৌন হয়রানির দায়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস নারীদের জন্য নিরাপদ হওয়া একটি মৌলিক অধিকার। তারা সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তকে শাস্তি না দিলে এবং ভুক্তভোগীকে ভয়ভীতি দেখানো বন্ধ না হলে তারা বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক বা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। তবে ক্যাম্পাসে এক থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা সত্য উদ্ঘাটনের অপেক্ষায় রয়েছেন।

আরও পড়ুন