সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

Sheikh Hasina’s ‘Special Congratulations’ to West Bengal Chief Minister Subhendu Adhikari

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) যখন শ্রী শুভেন্দু অধিকারীকে রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করেছে, তার ঠিক ৬ ঘণ্টা আগে

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) যখন শ্রী শুভেন্দু অধিকারীকে রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করেছে, তার ঠিক ৬ ঘণ্টা আগে ঢাকা থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাঠানো একটি ‘বিশেষ অভিনন্দন’ বার্তা দুই বাংলার রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

শুক্রবার (৮ মে) আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে শেখ হাসিনা পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত সকল প্রতিনিধিদের শুভেচ্ছা জানান। তবে বিজ্ঞপ্তিতে শুভেন্দু অধিকারীকে দেওয়া ‘বিশেষ অভিনন্দন’ নিছক সৌজন্য নয়, বরং এর গভীরে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখছেন বিশ্লেষকরা।

দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ ছিল যে, পশ্চিমবঙ্গের বিদায়ী তৃণমূল সরকারের শাসনামলে সীমান্ত এলাকায় উগ্রবাদী গোষ্ঠীর শক্তিশালী অবস্থান তৈরি হয়েছে।

গোয়েন্দা তথ্য মতে, বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের মুখে উগ্রবাদী সদস্যরা সীমান্ত পার হয়ে পশ্চিমবঙ্গে নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে নিত। এই প্রক্রিয়ায় তৃণমূলের শীর্ষ নেতাদের প্রচ্ছন্ন সমর্থন এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে জামায়াতে ইসলামীর গোপন অর্থনৈতিক লেনদেনের অভিযোগও বারংবার সামনে এসেছে। এই পরিস্থিতি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

২০১৯ সালে ইডেন গার্ডেনে গোলাপি বলের টেস্ট চলাকালীন শেখ হাসিনা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তিস্তা চুক্তি ও জামায়াত ইস্যুতে নমনীয় করার ব্যক্তিগত চেষ্টা চালিয়েছিলেন। কিন্তু মমতার অনড় অবস্থান ঢাকা ও কলকাতার দূরত্ব বাড়িয়ে দেয়। এর ওপর ২০২৪ সালে বাংলাদেশে সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় মমতার ‘ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য’ এবং তাঁর অনুসারীদের ভূমিকা আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষুব্ধ করে। বিশ্লেষকদের মতে, দিল্লিতে অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং কলকাতায় মমতার রাজনৈতিক পতনের সময় তাঁদেরই জোটসঙ্গী কংগ্রেসের নীরবতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ভারতীয় রাজনীতিতে মমতা এখন কোণঠাসা।

শুভেন্দু অধিকারীকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বেছে নেওয়ার পেছনে বিজেপির অভ্যন্তরীণ কৌশলের পাশাপাশি সীমান্ত ওপার থেকেও একটি ‘অদৃশ্য সমর্থন’ এখন স্পষ্ট। আওয়ামী লীগের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে শুভেন্দুকে ‘বিশেষভাবে অভিনন্দন’ জানানোর বিষয়টি মূলত দীর্ঘদিনের ‘মমতা-জামায়াত’ আঁতাতের বিরুদ্ধে একটি কূটনৈতিক পাল্টা চাল।

শুভেন্দু অধিকারী আগামীকাল শনিবার (৯ মে) পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন। তার এই উত্থান এবং শেখ হাসিনার বিশেষ অভিনন্দন বার্তাটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আগামী দিনে উগ্রবাদ নির্মূল এবং সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হবে দুই বাংলার নতুন সম্পর্কের মূল ভিত্তি। রাজনীতির বোদ্ধাদের মতে, এই একটি অভিনন্দন বার্তাই আগামীর অনেক জটিল সমীকরণকে সহজ করে দিচ্ছে।

আরও পড়ুন