প্রচলিত শ্রম আইন ও প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করে দৈনিক ইত্তেফাক থেকে এক নারী সাংবাদিককে আকস্মিক বরখাস্তের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী সাংবাদিক রুশা শূরকে নিয়মবহির্ভূতভাবে চাকরিচ্যুত করার প্রতিবাদে এবং নিজের অধিকার আদায়ে তিনি দৈনিক ইত্তেফাক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ (লিগ্যাল নোটিশ) পাঠাতে যাচ্ছেন।
এই বরখাস্তের নেপথ্যে ইত্তেফাকের মাল্টিমিডিয়া নিউজ এডিটর রিন্তি এবং সংবাদকক্ষের ভেতরে রাজনৈতিক আক্রোশ ও অশ্লীল বুলিংয়ের (Harassment) চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।
বরখাস্তের নেপথ্যে ‘নিউজ এডিটর রিন্তি’ ও অশ্লীল বুলিংয়ের অভিযোগ
ভুক্তভোগী সাংবাদিক রুশা শূরের আকস্মিক ও নিয়মবহির্ভূত বহিষ্কারের পেছনে সরাসরি অভিযোগের আঙুল উঠেছে দৈনিক ইত্তেফাকের মাল্টিমিডিয়া নিউজ এডিটর রিন্তির দিকে। অভিযোগ রয়েছে, রিন্তির ব্যক্তিগত ও অপেশাদার মনোভাবের কারণেই রুশাকে কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ ছাড়াই চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
শুধু তাই নয়, রুশার সঙ্গে কর্মরত সংবাদকক্ষের (নিউজরুম) আরেকজন সাব-এডিটরের বিরুদ্ধেও উঠেছে গুরুতর অভিযোগ। ওই সাব-এডিটর দীর্ঘদিন ধরে রুশাকে লক্ষ্য করে কর্মক্ষেত্রে চরম অশ্লীল বুলিং ও মানসিক হেনস্তা করে আসছিলেন বলে জানা গেছে। প্রচলিত শ্রম আইন লঙ্ঘন করে একজন নারী কর্মীকে এভাবে আকস্মিক বের করে দেওয়ার ঘটনা দেশের গণমাধ্যম সেক্টরের অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা ও অপেশাদার চর্চাকে আবারও নগ্নভাবে উন্মোচিত করেছে।
গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টদের মধ্যে জোর গুঞ্জন উঠেছে যে, এই বরখাস্তের ঘটনাটি সাধারণ কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে গভীর রাজনৈতিক আক্রোশ। অভিযুক্ত নিউজ এডিটর রিন্তি ও সংশ্লিষ্ট চক্রটি বিএনপিপন্থি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে বাজারে গুঞ্জন রয়েছে। অন্যদিকে, ভুক্তভোগী রুশা শূর এবং ইত্তেফাকের আরও কয়েকজন সাংবাদিক মুক্তিযুদ্ধপন্থি ও প্রগতিশীল ঘরানার আদর্শ ধারণ করায় তাদের ওপর এই আক্রোশ ছড়ানো হচ্ছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, সংবাদকক্ষের ভেতরে চলা এই প্রগতিশীল সাংবাদিক খেদাও এবং আক্রোশমূলক কর্মকাণ্ডে পেছন থেকে ইন্ধন দিচ্ছেন একজন জামায়াতপন্থি সাংবাদিক। সব মিলিয়ে ঐতিহ্যবাহী এই সংবাদমাধ্যমটির ভেতরে একটি বিশেষ রাজনৈতিক বলয় তৈরি করে ভিন্ন মতাদর্শের সাংবাদিকদের কোণঠাসা ও বহিষ্কার করার সুনির্দিষ্ট নীল নকশা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই চরম অন্যায় ও বৈষম্যের মুখে চুপ করে বসে থাকছেন না সাংবাদিক রুশা শূর। তিনি জানিয়েছেন, নিজের অধিকার ও আত্মসম্মান রক্ষায় তিনি সর্বোচ্চ আইনি লড়াইয়ে নামছেন। আগামীকালই তিনি দৈনিক ইত্তেফাক কর্তৃপক্ষ বরাবর সুনির্দিষ্ট ধারায় উকিল নোটিশ (Legal Notice) পাঠাবেন।
একই সঙ্গে কর্মক্ষেত্রে তাঁকে হেনস্তা, অপেশাদার উপায়ে বরখাস্ত এবং তাঁর সামাজিক ও পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার অপরাধে জড়িত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মানহানির মামলা দায়ের করবেন বলেও স্পষ্ট জানিয়েছেন রুশা।
একজন নারী সাংবাদিকের ওপর কর্মক্ষেত্রে এমন রাজনৈতিক আক্রোশ, অশ্লীল বুলিং এবং বেআইনিভাবে চাকরিচ্যুতির ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই রুশা শূরের এই আইনি লড়াইয়ের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করে ‘আমরা রুশার সাথে আছি’ বলে আওয়াজ তুলেছেন। এখন দেখার বিষয়, আইনি নোটিশের পর দৈনিক ইত্তেফাক কর্তৃপক্ষ এই বিশৃঙ্খলাকারীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয় এবং ঘটনা কোন দিকে মোড় নেয়।