সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

Huge fine for the third terminal of the airport

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় (থার্ড) টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনায় দীর্ঘসূত্রতা এবং চুক্তির শর্ত ভঙ্গের দায়ে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে (বেবিচক) প্রায় ১,৬৫০ কোটি

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় (থার্ড) টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনায় দীর্ঘসূত্রতা এবং চুক্তির শর্ত ভঙ্গের দায়ে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে (বেবিচক) প্রায় ১,৬৫০ কোটি টাকা পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তি বোর্ড। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়াম’ (এডিসি)-এর সাথে কাজের ধীরগতি, অর্থ ছাড়ে বিলম্ব এবং দীর্ঘদিনের রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এই রায় দেওয়া হয়েছে।

মালয়েশিয়া, যুক্তরাজ্য ও জার্মানির তিন বিশেষজ্ঞ বিচারকের সমন্বয়ে গঠিত এই আন্তর্জাতিক বোর্ড উভয় পক্ষের দীর্ঘ শুনানি ও নথি পর্যালোচনার পর এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রদান করে।

রায়ের বিস্তারিত তথ্য অনুযায়ী, তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পের বিভিন্ন পর্যায়ের কাজের বিপরীতে এবং রিটেনশন মানির (রক্ষণাবেক্ষণ জামানত) দ্বিতীয় কিস্তি বাবদ এডিসি-কে এই বিশাল অঙ্কের অর্থ পরিশোধ করতে হবে। এর সাথে পাওনা পরিশোধে বিলম্ব হওয়ায় অতিরিক্ত অর্থায়ন চার্জও যুক্ত হয়েছে, যার মোট পরিমাণ প্রায় ১,৬৫০ কোটি টাকা।

টার্মিনাল হস্তান্তরে অতিরিক্ত সময়ক্ষেপণ, পরিচালনা প্রস্তুতিতে ধীরগতি এবং অবকাঠামোগত রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যকার দীর্ঘদিনের আইনি বিরোধ। নতুন টার্মিনালের জন্য সময়মতো অপারেটর নিয়োগে ব্যর্থ হওয়ায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এডিসি-কে কোনো অতিরিক্ত অর্থ ছাড়াই দীর্ঘ সময় ধরে রক্ষণাবেক্ষণ, অপারেশন ও নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে। এতে কনসোর্টিয়ামটি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়।

জাপানের মিৎসুবিশি করপোরেশন, ফুজিটা করপোরেশন এবং দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং সিঅ্যান্ডটি করপোরেশনের যৌথ কনসোর্টিয়াম (এডিসি) টার্মিনালের মূল অবকাঠামোগত কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করলেও, বেবিচকের প্রশাসনিক জটিলতা ও অডিট আপত্তির কারণে এই বড় আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হলো রাষ্ট্রকে।

এই বিশাল আর্থিক ধাক্কা ও আইনি জটিলতার মাঝেই প্রকল্পটির চূড়ান্ত উদ্বোধনের তারিখ নিশ্চিত করেছে সরকার।

আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) তথ্য অধিদপ্তরে সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানিয়েছেন, সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আগামী ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে বহুল প্রতীক্ষিত থার্ড টার্মিনালটি আনুষ্ঠানিকভাবে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

নির্ধারিত সময়কে সামনে রেখে বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে আধুনিক নেটওয়ার্কিং ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি এখন দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। এই টার্মিনালটি চালু হলে বিমানবন্দরের যাত্রী ধারণ ক্ষমতা দ্বিগুণ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন