সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

Allocation on paper, solar lights are missing in reality

ইউরো বাংলা ডেস্ক কুমিল্লার দেবিদ্বারে নির্বাচনী প্রকল্প ও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন বরাদ্দের সোলার লাইট স্থাপন নিয়ে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর

ইউরো বাংলা ডেস্ক


কুমিল্লার দেবিদ্বারে নির্বাচনী প্রকল্প ও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন বরাদ্দের সোলার লাইট স্থাপন নিয়ে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর সাধারণ মানুষের করা আবেদন উপেক্ষিত হলেও, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি তালিকায় একই স্থানে ভিন্ন নামে একাধিক লাইট বরাদ্দের তথ্য মিলেছে। তবে বাস্তবে সেসব স্থানে কোনো সোলার লাইট বসেনি বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেবিদ্বার উপজেলার সোলার লাইট বরাদ্দের একটি হিসাব বা তালিকা প্রকাশ পায়। এরপরই বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় নাগরিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সাংসদ হাসনাত আব্দুল্লাহ জেলা পরিষদের ১০ লাখ টাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড দেখানোর পর বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়।

ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দা রুহুল আমিন জানান, গত নভেম্বর মাসে জাতীয় নির্বাচনের আগে তিনি নিজ বাড়ির সামনে একটি সোলার লাইটের জন্য কোনো প্রকার লবিং বা তদ্বির ছাড়াই দেবিদ্বার ইউএনও বরাবর একটি লিখিত আবেদন করেছিলেন। কিন্তু দীর্ঘদিন পার হলেও সেখানে কোনো লাইট স্থাপন করা হয়নি।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, আজ ফেসবুকে দেবিদ্বারের সোলার লাইট বরাদ্দের যে তালিকাটি ঘুরছে, সেখানে দেখা যাচ্ছে আমার বাড়ির সামনেই ভিন্ন নামে দুইটি সোলার লাইট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে সেখানে একটি লাইটও লাগানো হয়নি। তাহলে প্রশ্ন হলো এই সোলার লাইটগুলো আসলে কোথায় বসেছে? সোলার বসানোর নাম করে কারা এই সরকারি টাকা আত্মসাৎ করেছে?

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সম্প্রতি ‘এমপি হওয়ার আগেই দেবিদ্বারে হাসনাত আব্দুল্লাহর নামে ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ’ সংক্রান্ত একটি খবর প্রকাশের পর থেকেই উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের তালিকা ও হিসাব সামনে আসতে শুরু করেছে। ফেসবুকে ফাঁস হওয়া বর্তমান তালিকাগুলো যদি সত্য হয়, তবে কাগজে-কলমে একই জায়গায় দুইটি লাইট বরাদ্দ দেখিয়ে একটিও না দেওয়ার এই ব্যখ্যা প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দিতে হবে। এসব তালিকা বেনামী বা ভুয়া কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।

কাগজে-কলমে বরাদ্দ, বাস্তবে শূন্য এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ এখন প্রশ্ন তুলছেন, এই অনিয়মের জবাব তারা কার কাছে পাবেন? সোলার লাইট প্রকল্পের নামে হওয়া এই হরিলুটের সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করার দাবি জানিয়েছেন দেবিদ্বারের সাধারণ জনগণ।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করওে বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন