বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হান্নান মাসউদের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে ব্যাপক দুর্নীতি, অর্থলিপ্সা এবং আওয়ামী লীগ নেতাদের সুুবিধা পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান বিএনপি নেতা রাশেদ খানের একটি ফেসবুক পোস্ট এবং ঘটনার অন্যতম প্রত্যক্ষদর্শী আবদুল গাফফার জিসানের ভিডিও বক্তব্যের পর এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।
অভিযোগ উঠেছে, নোয়াখালীর হাতিয়া থেকে উঠে আসা এই সমন্বয়ক এখন কোটি কোটি টাকার মালিক।
রাশেদ খানের ফেসবুক পোস্ট অনুযায়ী, গণঅভ্যুত্থানের পর সমন্বয়কদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন হান্নান মাসউদ। আওয়ামী লীগের শীর্ষনেতাদের নিরাপদ আশ্রয় ও পারাপার নিশ্চিত করতে তার নিয়মিত বৈঠক হতো। রাজধানীর পল্টনের হোটেল ফার্সের কয়েকটি টেবিল একপ্রকার হান্নান মাসউদের জন্যই বরাদ্দ থাকতো বলে জানা গেছে।
ফেসবুক পোস্টে একটি নির্দিষ্ট ঘটনার উল্লেখ করে বলা হয়, একবার আওয়ামী লীগের এক এমপিকে ৪ কোটিতে বিমানবন্দর পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার আলাপ ওঠে। আওয়ামী লীগের নেতাদের সাথে বৈঠক শেষ করে হান্নান মাসউদ জিসানকে বলে, ‘ভাই, ওরা ১ কোটি দিতে চায়, আপনি ৩ কোটিতে ডিল করেন। ওদের সব কাঁচা টাকা, টাকা পয়সার দরকার আছে!’ এ কথা শুনে একপ্রকার স্তব্ধ হয়ে যায় জিসান।
গণঅভ্যুত্থানের সময় থেকে হান্নান মাসউদের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এবং বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের উত্তাল দিনগুলোতে সমন্বয়ক রিফাত রশিদ ও মাহিন সরকারদের ক্যামেরার পেছনের কারিগর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবদুল গাফফার জিসান এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
পরবর্তীতে এক ভিডিও বক্তব্যে জিসান বলেন, হান্নান মাসুদ আমার ছোট ভাই। সে ৪ কোটি টাকা ডিল করতে বলে। পার্টি ১ কোটি দিতে চায়। বিষয়টি নিয়ে আমার ছোট ভাই হান্নান মাসুদের মন খারাপ হয়। আমি তাকে শান্ত করার চেষ্টা করতে বিভিন্ন কথা বলি। তবে এই কথোপকথনটি গোপনে ভিডিও করে তার সাথে বেইমানি করা হয়েছে বলেও জিসান দাবি করেন। হান্নান মাসউদের টাকার প্রতি আকস্মিক মোহ ও চারিত্রিক পরিবর্তন মেনে নিতে না পেরেই জিসান তার কাছ থেকে সরে আসেন।
অভিযোগে আরও জানা যায়, নোয়াখালীর হাতিয়ার সাবেক আওয়ামী লীগ এমপি মোহাম্মদ আলীকে নিজের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ও এমপি হওয়ার পথের কাঁটা মনে করতেন হান্নান মাসুদ। সেই ক্ষোভ থেকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রভাব খাটিয়ে শুরুতেই মোহাম্মদ আলীকে গ্রেফতার করাতে ভূমিকা রাখেন তিনি।
ঘরোয়া আলাপে হান্নান মাসউদ নাকি বলতেন, হাতিয়ার এমপি হতে গেলে কোয়ালিটি ও কোয়ান্টিটিতে তাকে মোহাম্মদ আলীর মতোই অর্থবিত্তের মালিক হতে হবে। আর সেই লক্ষ্য পূরণের জন্যই তিনি আওয়ামী লীগের ‘কাঁচা টাকা’র দিকে ঝুঁকে পড়েন এবং অল্প দিনেই ‘কোটিপতি’ বনে যান।
এই ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ রাজনৈতিক মহলে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্পিরিট ধ্বংস করে যারা নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত, তাদের দ্রুত তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।