সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

The EC wants to hold local government elections at the end of September

সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে আগামী আগস্ট মাসেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সেপ্টেম্বরের শেষ কিংবা অক্টোবরের

সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে আগামী আগস্ট মাসেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সেপ্টেম্বরের শেষ কিংবা অক্টোবরের শুরুতেই স্থানীয় সরকারের অন্তত একটি স্তরের ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হতে পারে।

ইসি সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনারদের ঈদ-পরবর্তী এক শুভেচ্ছা বৈঠকে এ বিষয়ে প্রাথমিক রোডম্যাপ আলোচনা করা হয়েছে। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, জুন ও জুলাই—এই দুই মাসের মধ্যে নির্বাচন উপযোগী করার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে আগস্ট থেকে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনি কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, মাঠপর্যায়ে ভোট নামানোর আগে স্থানীয় সরকার আইন ও বিধিমালা সংস্কারের কাজ গুছিয়ে আনা হবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, “সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে নির্বাচন করতে হলে আগস্টে আমাদের তফসিল ঘোষণা করতে হবে। কারণ সাধারণত ভোটের এক থেকে দেড় মাস আগে তফসিল দেওয়ার নিয়ম রয়েছে।”

তিনি আরও জানান, প্রস্তুতিমূলক কাজের অংশ হিসেবে আগামী তিন মাসের মধ্যে আইন-বিধি সংস্কার, নির্বাচনি সরঞ্জামের মজুদ ও চাহিদাসহ আনুষাঙ্গিক সব বিষয় শেষ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাঁচ স্তরের স্থানীয় সরকারের মধ্যে নির্বাচন কমিশন প্রাথমিক অগ্রাধিকার হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন দিয়ে মাঠের ভোট শুরু করার কথা ভাবছে।

বর্তমানে দেশে ৪ হাজার ৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৬১টি জেলা পরিষদ, ৪৯৫টি উপজেলা পরিষদ, ৩৩০টি পৌরসভা এবং ১৩টি সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন পদ নির্বাচন উপযোগী হয়ে রয়েছে। তবে কয়েক ধাপে অনুষ্ঠেয় এই নির্বাচনের কোন প্রতিষ্ঠানটি দিয়ে ভোট শুরু হবে, তা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত করবে সাংবিধানিক এই সংস্থাটি।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, “চলতি বছরে সিটি করপোরেশন নির্বাচন দিয়ে শুরু করা যাবে কি না, তা নিয়ে কিছুটা সংশয় রয়েছে। তবে পৌরসভা, উপজেলা ও জেলা পরিষদ নিয়ে কী করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা দরকার। অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়টা ভোটের জন্য উপযুক্ত। এর মধ্যে আবার বছর শেষে বার্ষিক পরীক্ষাও রয়েছে। যেহেতু সব স্তরেই ভোট করতে হবে, তাই বর্ষার মৌসুম এবং সার্বিক দিক বিবেচনা করেই তফসিল দেওয়া হবে।”

উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন করলেও এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন বর্তমান কমিশন এখনো পর্যন্ত কোনো স্থানীয় সরকারের নির্বাচন আয়োজন করেনি। ফলে এটিই হতে যাচ্ছে এই কমিশনের অধীনে প্রথম স্থানীয় সরকার নির্বাচন। এবারের নির্বাচনগুলো দলীয় সরকারের অধীনে হলেও তা সম্পূর্ণ নির্দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হবে বলে ইসি সূত্রে জানা গেছে।

আগামী কয়েকদিনের মধ্যে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সাথে বৈঠক শেষে কোন অঞ্চলের ভোট কবে হবে, তার চূড়ান্ত রূপরেখা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন।

আরও পড়ুন