ঈদের দীর্ঘ ছুটি শেষে ঢাকার সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাই অঞ্চলের তৈরি পোশাক কারখানাগুলোতে আবারও চিরচেনা কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। ১০ দিনের ছুটি কাটিয়ে শনিবার (৬ জুন) সকাল থেকে এ অঞ্চলের অধিকাংশ কারখানায় পুরোদমে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে উৎসবের আমেজ কাটিয়ে কাজে ফেরার এই ইতিবাচক চিত্রের মধ্যেই কার্যাদেশ সংকটের অজুহাতে একটি বড় শিল্প গ্রুপ থেকে ১ হাজার ৮৬৮ জন শ্রমিক-কর্মচারী ছাঁটাইয়ের ঘটনায় শিল্পাঞ্চলে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
শিল্প পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, কারখানাভেদে ছুটির মেয়াদ কিছুটা ভিন্ন হলেও শনিবার সকাল থেকে এ অঞ্চলের প্রায় শতভাগ কারখানায় উৎপাদন শুরু হয়েছে। ঢাকা ইপিজেডসহ পুরো শিল্পাঞ্চলে স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ বিরাজ করছে এবং শ্রমিকদের উপস্থিতিও সন্তোষজনক। এর আগে কিছু কারখানা গত বৃহস্পতিবার থেকেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সীমিত আকারে উৎপাদন শুরু করেছিল।
এদিকে ঈদ ছুটি শেষে ঢাকা-আরিচা ও নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়ক হয়ে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক পরিবার-পরিজন নিয়ে কর্মস্থলে ফিরেছেন। শেষ মুহূর্তের যানজট ও ভোগান্তি এড়াতে অনেক শ্রমিক নির্ধারিত সময়ের আগেই শিল্পাঞ্চলে এসে পৌঁছান।
শিল্পাঞ্চলে কাজের গতি ফিরলেও তৈরি পোশাক খাতে কার্যাদেশ কমে যাওয়ার কারণে মুন্সিগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর মালিকানাধীন ‘আল-মুসলিম গ্রুপ’-এর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ১ হাজার ৮৬৮ জন শ্রমিক ও স্টাফকে ছাঁটাই করা হয়েছে। গত শুক্রবার রাতে ছাঁটাইকৃতদের নামের তালিকা সংশ্লিষ্ট কারখানার মূল ফটকে টানিয়ে দেয় কর্তৃপক্ষ।
আল মুসলিম গ্রুপের এডমিনিস্ট্রেশনের ডিজিএম আবু রায়হান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, কার্যাদেশ কমে যাওয়ার কারণে নিয়ম অনুযায়ী বেতন-ভাতা পরিশোধের মাধ্যমেই এই ছাঁটাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। এর মধ্যে, একে এম নিটওয়্যার (সাভার, উলাইল) ১ হাজার ১২০ জন শ্রমিক ও ১৬৬ জন স্টাফ, আল মুসলিম অ্যাপারেল (আশুলিয়া, জিরাবো) ৫৩ জন শ্রমিক ও ২ জন স্টাফ,প্যাসিফিক ব্লু জিন্স ওয়্যার (সাভার, রেডিও কলোনি) ৪৮১ জন শ্রমিক ও ৪৮ জন স্টাফ।
কারখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে কাজের অর্ডার বৃদ্ধি পেলে ছাঁটাইকৃত এই শ্রমিকদের পুনরায় নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। তবে হঠাৎ করে এত বিপুল সংখ্যক শ্রমিক চাকরি হারানোয় তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক সহকর্মী ছাঁটাইয়ের ঘটনায় ক্ষুব্ধ কিছু শ্রমিক দাবি আদায়ে আন্দোলনের চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তারা সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত সতর্ক অবস্থানে যায়।
অন্যদিকে, কার্যাদেশ সংকটের একই অজুহাতে আশুলিয়ার মির্জানগর এলাকায় ‘গ্লোবার এ্যাটায়ার লিমিটেড’ নামের একটি গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষ আজ ৬ জুন থেকে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত কারখানা বন্ধ ঘোষণা করেছে।
সার্বিক বিষয়ে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন শিল্পী জানান, শিল্পাঞ্চলের ১৭৩টি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক এবং ঈদ ফেরত যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে মহাসড়কে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। বর্তমানে পুরো শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং কারখানাগুলোতে উৎপাদন কার্যক্রম চলমান আছে।