সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

Eid joy fades, salaries of 6 lakh teachers and employees still outstanding: anger in Parliament

ঈদুল আজহার আনন্দের মাঝেও বিষাদের ছায়া নেমে এসেছে দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৬ লাখ শিক্ষক-কর্মচারীর জীবনে। জুন মাসের ৮ তারিখ পার হয়ে গেলেও তারা এখনো

ঈদুল আজহার আনন্দের মাঝেও বিষাদের ছায়া নেমে এসেছে দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৬ লাখ শিক্ষক-কর্মচারীর জীবনে। জুন মাসের ৮ তারিখ পার হয়ে গেলেও তারা এখনো মে মাসের বেতন-ভাতা পাননি। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম অর্থকষ্টে দিন কাটাচ্ছেন তারা।

সোমবার (৮ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের (বাজেট অধিবেশন) দ্বিতীয় দিনে ৭১ বিধিতে দেওয়া এক নোটিশে এ বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন কুমিল্লার সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভুঁইয়া। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের মাধ্যমে তিনি বিষয়টি সংসদে উত্থাপন করেন।

সংসদ সদস্য বলেন, “অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাতে হচ্ছে যে বাংলাদেশের ৬ লাখ শিক্ষক-কর্মচারী এবার ঈদুল আজহার আনন্দ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। আজ জুনের ৮ তারিখ হওয়া সত্ত্বেও তাদের মে মাসের বেতন দেওয়া হয়নি। বর্তমান সরকারের আমলে শিক্ষকরা ঈদের আগে বেতন পাবেন না, এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”

তিনি অভিযোগ করেন, সরকারকে বিতর্কিত করার উদ্দেশ্যে একটি বিশেষ গোষ্ঠী শিক্ষকদের বেতন প্রদানে বাধা সৃষ্টি করছে। এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

অতীতের বিভিন্ন সরকারের আমলে শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির বিষয় তুলে ধরে সেলিম ভুঁইয়া বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান শিক্ষকদের জাতীয় বেতন স্কেলের ৫০ শতাংশ প্রদান করে জাতীয়করণের সূচনা করেছিলেন। পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া শিক্ষকদের জন্য উৎসব ভাতা চালু এবং ২০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি করেছিলেন।

তিনি আরও বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের বিএনপি সরকারের সময়ে মাসের ১৫ তারিখেও ঈদ হলে তার আগেই সেই মাসের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হতো। অথচ এখন প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনার এত উন্নতির পরও কেন সময়মতো বেতন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, তা বোধগম্য নয়।

সংসদ সদস্য বর্তমান সরকারের শিক্ষাবান্ধব উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষকদের অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্ট সচল রাখতে প্রায় চার হাজার কোটি টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে। কিন্তু সরকারের এমন ইতিবাচক উদ্যোগের পরও প্রশাসনিক গাফিলতি বা চক্রান্তের কারণে ৬ লাখ শিক্ষকের বেতন আটকে থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক।

তিনি স্পিকারের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, অবিলম্বে জটিলতা নিরসন করে শিক্ষকদের মে মাসের বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাস দ্রুত পরিশোধ করতে হবে, যাতে তারা স্বস্তি ফিরে পান।

আরও পড়ুন