সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

ইতালিতে কিশোরী ধর্ষণে প্রবাসী বাংলাদেশির ১৪ বছরের কারাদণ্ড

ইতালির পালেরমো শহরে এক কিশোরীকে ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর মামলায় প্রবাসী বাংলাদেশি যুবক আলাউদ্দিন(৩৮)কে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত। কারাদণ্ডের পাশাপাশি আদালত তাকে ১ লাখ ইউরো

ইতালির পালেরমো শহরে এক কিশোরীকে ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর মামলায় প্রবাসী বাংলাদেশি যুবক আলাউদ্দিন(৩৮)কে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত। কারাদণ্ডের পাশাপাশি আদালত তাকে ১ লাখ ইউরো জরিমানা করারও আদেশ দিয়েছেন। তবে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, রায় ঘোষণার ঠিক আগমুহূর্তে সুকৌশলে ইতালি ত্যাগ করে বর্তমানে তিনি পলাতক রয়েছেন।

২০২৫ সালের ৭ জুন পালেরমোর ভিয়া রিফেরদিকো এলাকার একটি দোকানে মরক্কান বংশোদ্ভূত এক ১৪ বছর বয়সী কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়। ভুক্তভোগী পরিবার পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করলে দীর্ঘ তদন্ত শেষে চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি আদালত আলাউদ্দিনকে দোষী সাব্যস্ত করে এই কঠোর সাজা প্রদান করেন।

স্থানীয় সূত্র ও ব্যাংক সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, বিচার চলাকালীন সময়েই দেশ ছাড়ার ছক আঁকেন আলাউদ্দিন। বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যাংক থেকে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার ইউরো (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ কোটি টাকা) সংগ্রহ করেন তিনি। অভিযোগ উঠেছে, রায়ের মাত্র একদিন আগে অর্থাৎ ১১ জানুয়ারি বড় ভাইয়ের সহায়তায় তিনি বাংলাদেশে পালিয়ে যান। স্থানীয় পুলিশ তার পলায়নের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতালিতে ওই দোকানের সাবেক কর্মচারী সুমন মিয়ার পরিবার বাংলাদেশে হয়রানির শিকার হচ্ছে বলে জানা গেছে। সুমন মিয়া দাবি করেছেন, তার পরিবারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। তার বাবাকে দুই দিন আটকে রাখা হয়েছিল। আলাউদ্দিনের অপরাধের দায় কেন অন্য পরিবারের ওপর চাপানো হচ্ছে, তা নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

এই ন্যাক্কারজনক অপরাধ এবং সাজা থেকে বাঁচতে আলাউদ্দিনের পলায়নের ঘটনায় ইতালিতে থাকা বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রবাসীরা বলছেন, এ ধরনের ঘৃণ্য অপরাধের ফলে বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তারা অবিলম্বে পলাতক আলাউদ্দিনকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

ইতালির স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধীকে খুঁজে বের করতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যোগাযোগ ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তবে অভিযুক্তের বর্তমান অবস্থান বা পলায়নের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন