সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

দেশে টিকা ঘাটতির বিষয়ে ইউনূস সরকারকে ৬ বার চিঠি দিয়েছিল ইউনিসেফ

দেশে টিকার ঘাটতি এবং এর ফলে বিভিন্ন রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বেশ কয়েকবার সতর্ক করে দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে ইউনিসেফ বাংলাদেশ। সংস্থাটি

দেশে টিকার ঘাটতি এবং এর ফলে বিভিন্ন রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বেশ কয়েকবার সতর্ক করে দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে ইউনিসেফ বাংলাদেশ। সংস্থাটি বলছে, ইউনুস সরকারের আমলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে লিখিতভাবে পাঁচ থেকে ছয়টি চিঠি দিয়ে এই সম্ভাব্য টিকা সংকটের কথা জানানো হয়েছিল।

বুধবার (২০ মে) দুপুরে রাজধানীর ইউনিসেফ কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে দেশে বিদ্যমান টিকা সংকটের মূল কারণ, সংকট কাটিয়ে উঠতে ইউনিসেফের গৃহীত পদক্ষেপ এবং ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না হয় সেসব বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন রানা ফ্লাওয়ার্স।

সংবাদ সম্মেলনে ইউনিসেফের প্রতিনিধি জানান, কেবল লিখিত চিঠিই নয়, সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে আয়োজিত অন্তত ১০টি পৃথক বৈঠকেও ইউনিসেফের পক্ষ থেকে এই আসন্ন সংকটের বিষয়টি বারবার স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তা সত্ত্বেও সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় দেশে টিকার ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

রানা ফ্লাওয়ার্স সাংবাদিকদের জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চাইলে উন্মুক্ত টেন্ডার পদ্ধতিতে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে টিকা কিনতে পারে। তবে দেশের সার্বিক জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় টিকার মজুত সবসময় নিশ্চিত থাকা জরুরি।

উন্মুক্ত টেন্ডারের সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে তিনি বলেন, সাধারণ উন্মুক্ত টেন্ডার পদ্ধতিতে নিজস্ব প্রক্রিয়ায় টিকা সংগ্রহ করতে প্রায় এক বছরের মতো দীর্ঘ সময় লেগে যায়। কিন্তু ইউনিসেফের নিজস্ব বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক ও লজিস্টিকস ব্যবস্থার মাধ্যমে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে সরাসরি টিকা সংগ্রহ করা সম্ভব।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইউনিসেফের এই সতর্কবার্তার পরও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এমন উদাসীনতা দেশের শিশু ও সাধারণ মানুষের টিকাদান কর্মসূচিকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সংকট উত্তরণে সরকার ইউনিসেফের মাধ্যমে দ্রুত টিকা আমদানির পথ বেছে নেবে কিনা, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন