সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

সাইপ্রাসে এস আলমের সম্পত্তি জব্দের নির্দেশ

সাইপ্রাস প্রতিনিধি সাইপ্রাসের নিকোসিয়া জেলা আদালত বাংলাদেশি শিল্পপতি মোহাম্মদ সাইফুল আলম ও তাঁর স্ত্রীর মালিকানাধীন পারেক্ক্লিশিয়া এলাকার একটি সম্পত্তি জব্দের নির্দেশ দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৮ মে)

সাইপ্রাস প্রতিনিধি

সাইপ্রাসের নিকোসিয়া জেলা আদালত বাংলাদেশি শিল্পপতি মোহাম্মদ সাইফুল আলম ও তাঁর স্ত্রীর মালিকানাধীন পারেক্ক্লিশিয়া এলাকার একটি সম্পত্তি জব্দের নির্দেশ দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) বাংলাদেশে চলমান ব্যাংক জালিয়াতি ও অর্থপাচারের অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের অনুরোধে এই আদেশ জারি করা হয়।


গত ১৯ মে সাইপ্রাসের অ্যান্টি মানি লন্ডারিং ইউনিট (মোকাস) আদালতে আবেদন করলে আদালত ওই সম্পত্তি ফ্রিজ করার নির্দেশ দেন। বাংলাদেশ সরকারের পারস্পরিক আইনি সহায়তা প্রক্রিয়ার আওতায় এই অনুরোধ পাঠানো হয়েছিল।
তবে সাইফুল আলম তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।


মোহাম্মদ সাইফুল আলম এস আলম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান। তিনি ২০১৬ সালে সাইপ্রাসের বহুল আলোচিত ‘গোল্ডেন পাসপোর্ট’ কর্মসূচির মাধ্যমে দেশটির নাগরিকত্ব লাভ করেন। বর্তমানে যে সম্পত্তিটি জব্দের আওতায় এসেছে সেটি পারেক্ক্লিশিয়ায় অবস্থিত একটি দুইতলা বাড়ি।


আদালতে জমা দেওয়া নথি অনুযায়ী, বাংলাদেশি তদন্তকারীরা ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত পরিচালিত বিভিন্ন আর্থিক লেনদেন ও কোম্পানির নেটওয়ার্ক নিয়ে তদন্ত করছেন। তদন্তে প্রতারণামূলক ঋণ গ্রহণ, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং অর্থপাচারের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


ফ্রিজিং আদেশ জারির একদিন পর বাংলাদেশের একটি আদালত ইসলামী ব্যাংক থেকে এস আলম গ্রুপের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের নামে নেওয়া প্রায় ৬ মিলিয়ন ইউরো সমপরিমাণ ঋণ সংক্রান্ত মামলায় সাইফুল আলমসহ তাঁর পরিবারের ১০ সদস্য ও সহযোগীকে পাঁচ মাসের কারাদণ্ড দেন।


বাংলাদেশি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ওই ঋণ ১৩৪টি বাস কেনার উদ্দেশ্যে নেওয়া হলেও বাসগুলো কখনও কেনা হয়নি।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট নথিতে বলা হয়েছে, এস আলম গ্রুপ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকসহ একাধিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে বিপুল অঙ্কের ঋণ নিয়েছিল। পরে এসব ঋণের অনেকগুলো খেলাপিতে পরিণত হয়। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, এসব ঋণের অর্থ বিভিন্ন কোম্পানি ও আর্থিক কাঠামোর মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয়েছে কি না।


বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর প্রকাশ্যে দাবি করেছেন, এই ঘটনার সঙ্গে দেশ থেকে ৮ বিলিয়ন ইউরোরও বেশি অর্থ পাচারের অভিযোগ জড়িত। বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের ধারণা, তদন্তসংশ্লিষ্ট সম্পদের কিছু অংশ সাইপ্রাস, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে থাকতে পারে।


তদন্তের একটি অংশে সাইপ্রাসে নিবন্ধিত ACLARE International নামের একটি কোম্পানির বিষয়ও উঠে এসেছে। ২০১৬ সালে ACLARE Investment Ltd কিনে নেওয়ার পর সাইফুল আলম কোম্পানিটির মালিকানা নেন। বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ খতিয়ে দেখছে, তদন্তাধীন অর্থ স্থানান্তরে কোম্পানিটি ব্যবহার করা হয়েছে কি না।


আদালতের নথিতে সাইপ্রাস, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস এবং জার্সিতে গড়ে ওঠা বিভিন্ন কোম্পানি ও ট্রাস্টের নেটওয়ার্কের উল্লেখ রয়েছে। তদন্তকারীরা এসব প্রতিষ্ঠানের মালিকানা কাঠামো ও আর্থিক কার্যক্রম যাচাই করছেন।


আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠান Quinn Emanuel-এর মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে সাইফুল আলম দাবি করেছেন, তাঁর সব বিনিয়োগ বৈধ বিদেশি উৎস থেকে এসেছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপ অন্যায় ও ভিত্তিহীন।


তিনি আরও জানান, সম্পদ জব্দের মতো পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তির লঙ্ঘন বলে দাবি করে তিনি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বিরোধ নিষ্পত্তি কেন্দ্র (ICSID)-এ মামলা করেছেন।


উল্লেখ্য, সাইপ্রাস সরকার ইতোমধ্যে বিতর্কিত ‘গোল্ডেন পাসপোর্ট’ কর্মসূচি বাতিল করেছে। তবে এই কর্মসূচি নিয়ে তদন্তকারী নিকোলাটোস কমিটির প্রতিবেদনে সাইফুল আলমের নাম পাওয়া যায়নি।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন