সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

বাউফলে তালাবদ্ধ আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন

ইউরো বাংলা ডেস্ক পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় একটি তালাবদ্ধ ও পরিত্যক্ত আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে জাতীয় এবং দলীয় পতাকা উত্তোলনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক

ইউরো বাংলা ডেস্ক


পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় একটি তালাবদ্ধ ও পরিত্যক্ত আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে জাতীয় এবং দলীয় পতাকা উত্তোলনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। কে বা কারা রাতের আঁধারে এই পতাকা দুটি লাগিয়েছেন, তা উদ্ঘাটনে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (৩০ মে) দিবাগত রাতের কোনো একসময়ে পৌর শহরের কুন্ডুপট্টি সড়কে অবস্থিত আওয়ামী লীগের (জুয়েল গ্রুপ সমর্থিত) কার্যালয়ের সামনে এই পতাকা দুটি উত্তোলন করা হয়। পরে তালাবদ্ধ কার্যালয়ে পতাকা ওড়ার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে জনমনে নানামুখী প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।

সর্বশেষ আজ রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে কার্যালয়টির সামনে দলীয় পতাকা দেখা না গেলেও, জাতীয় পতাকাটি উড়তে দেখা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শনিবার রাত ১১টার দিকে পথচারীরা প্রথম কার্যালয়ের সামনের স্ট্যান্ডে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উড়তে দেখেন। ওই সময় কার্যালয়টি সম্পূর্ণ তালাবদ্ধ অবস্থায় ছিল। বাউফল থানার অদূরে ব্যস্ততম সড়কের পাশের একটি তালাবদ্ধ কার্যালয়ে এমন রহস্যজনক ঘটনায় তারা বিস্মিত। তারা অনতিবিলম্বে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে জড়িতদের চিহ্নিত করার দাবি জানান।

দলীয় সূত্র জানায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সাবেক চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজের সাথে রাজনৈতিক বিরোধের জেরে বাউফল থানার পাশে পৃথক এই কার্যালয়টি স্থাপন করেছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বাউফল পৌরসভার সাবেক মেয়র জিয়াউল হক জুয়েল। এটি এলাকায় ‘জুয়েল গ্রুপের কার্যালয়’ হিসেবে পরিচিত।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় বাউফল উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রধান কার্যালয় ‘জনতা ভবন’-এ অগ্নিসংযোগ করা হয়। বর্তমানে সাবেক চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ একাধিক মামলায় কারাবন্দী রয়েছেন এবং সাবেক মেয়র জিয়াউল হক জুয়েল পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি জানার পর থেকেই বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। কারা এবং কী উদ্দেশ্যে তালাবদ্ধ কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন করেছে তা শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন