ঢাকা সফররত তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা শিল্পে তুরস্কের পক্ষ থেকে আরও বেশি বিনিয়োগ এবং দুই দেশের সামরিক ও কৌশলগত সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।
আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু হয়। বৈঠক শেষে উভয় দেশের মন্ত্রী একটি যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন।
দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে শক্তিশালী কূটনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। আজকের বৈঠকে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, নিরাপত্তা সংলাপ এবং বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। বৈঠক শেষে দুই দেশের মধ্যে সংস্কৃতিবিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হওয়ার কথা রয়েছে, যা দুই দেশের সাংস্কৃতিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে।
যৌথ প্রেস ব্রিফিং শেষ করে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে আশ্রিত রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে যাওয়ার কথা রয়েছে। শুরু থেকেই রোহিঙ্গা সংকটে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এবং মাঠপর্যায়ে তুরস্কের মানবিক সহায়তা ও জোরালো কূটনৈতিক সমর্থন রয়েছে। এই সফরের মাধ্যমে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় তুরস্কের ভূমিকা আরও গতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, একাধিক দেশ সফরের অংশ হিসেবে দুদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকায় পৌঁছান হাকান ফিদান। এর আগে, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান তুরস্ক সফর করেছিলেন। সেই সময় আঙ্কারায় তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান ড. খলিলুর রহমান। সেই আমন্ত্রণের সূত্র ধরেই এই উচ্চপর্যায়ের সফরটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফরের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব যেমন বৃদ্ধি পাবে, তেমনি প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্য খাতে দুই দেশের অংশীদারিত্ব নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।