সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

আইভী এখন চুনকা কুটিরে, বাড়ির সামনে পুলিশের সিসিটিভি

দীর্ঘ ১৩ মাস কারাভোগের পর অবশেষে জামিনে মুক্ত হয়ে নিজের বাসভবনে ফিরেছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) সাবেক মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি

দীর্ঘ ১৩ মাস কারাভোগের পর অবশেষে জামিনে মুক্ত হয়ে নিজের বাসভবনে ফিরেছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) সাবেক মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। তার এই কারামুক্তির পর যেমন রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে, তেমনি আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে তার দেওভোগের বাসভবন ‘চুনকা কুটির’ এবং এর আশপাশে পুলিশের আধুনিক সিসি ক্যামেরা স্থাপনের বিষয়টি।

গত বুধবার (৩ জুন) রাত সোয়া ১০টার দিকে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান আইভী। এরপর রাত সাড়ে ১২টার দিকে তিনি নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকায় অবস্থিত নিজ বাসভবনে পৌঁছান।

গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে সরেজমিনে চুনকা কুটির এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কারামুক্ত মেয়রের আগমনকে কেন্দ্র করে তার কর্মী-সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভিড় জমেছে। এদিকে ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী জামিনে মুক্ত হয়ে বাসায় ফেরার পরপরই বুধবার রাতেই চুনকা কুটিরের সামনে এবং চারপাশের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পয়েন্টে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করেছে পুলিশ।

বাসভবনের চারপাশে হঠাৎ সিসি ক্যামেরা স্থাপনের বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী জানান, পুরো নারায়ণগঞ্জ সদর এলাকাকে সিসিটিভির আওতায় আনার অংশ হিসেবে শহরে ২০০০ আধুনিক ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা স্থাপনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপট নিয়ে তিনি বলেন,

“বিশেষভাবে ডা. আইভী জামিনে বের হওয়ার পরে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কোনো নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মীরা যাতে এখানে এসে সংগঠিত হতে না পারে, সে বিষয়টি কঠোর নজরদারিতে রাখতেই এই সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো স্থাপন করা হয়েছে।”

আইভীর পারিবারিক সূত্র জানায়, নিরাপত্তাজনিত কারণে বর্তমানে বাসায় আগত দর্শনার্থীদের সংখ্যা সীমিত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এরপরও বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাকে একনজর দেখতে এবং শুভেচ্ছা জানাতে আসছেন। কারামুক্তির প্রথম দিন চুনকা কুটিরে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি আবদুল কাদির এবং সাবেক কাউন্সিলর মনিরুজ্জামান মনিরসহ আইভীর ঘনিষ্ঠজনেরা।

পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানায়, দীর্ঘ বন্দিত্বের সময়কে আইভী মূলত আত্মশুদ্ধি ও আধ্যাত্মিক চর্চার একটি অধ্যায় হিসেবে নিয়েছেন। কারাগারে থাকাকালে তিনি নিয়মিত নামাজ, দোয়া ও দুরুদ শরিফ পাঠসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুশীলনে সময় কাটিয়েছেন। ফলে মুক্ত হওয়ার প্রথম দিনটিতে তার মধ্যে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি বা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি। দীর্ঘ বন্দিজীবনের অভিজ্ঞতা, আত্মসমালোচনা এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভালোবাসা গ্রহণের মধ্য দিয়েই কাটছে তার সময়।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৯ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জের দেওভোগের বাসা থেকে ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময়কার তিনটি হত্যা মামলা এবং দুটি হত্যাচেষ্টা মামলাসহ মোট ১২টি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। বেশ কিছু মামলায় দফায় দফায় জামিন পেলেও পরবর্তীতে নতুন নতুন মামলায় তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছিল। সর্বশেষ গত ৩০ এপ্রিল সিদ্ধিরগঞ্জ থানার দুটি হত্যা মামলায় হাইকোর্ট থেকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পাওয়ার পর অবশেষে দীর্ঘ ১৩ মাস পর তার মুক্তির পথ সুগম হয়।

ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী ২০০৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার প্রথম নারী চেয়ারম্যান ও মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০১১ সালে নবগঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) প্রথম নির্বাচনে বিজয়ী হন এবং পরবর্তীতে টানা তিন মেয়াদে মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করে দেশের রাজনীতিতে একজন আলোচিত ও প্রভাবশালী স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন