সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

হাসনাত আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে ‘বসুন্ধরা গ্রুপ’ থেকে কোটি টাকার ফান্ডিং নেওয়ার অভিযোগ

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম শীর্ষ নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে বসুন্ধরা গ্রুপ থেকে কোটি টাকার ফান্ডিং নেওয়া এবং বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ব্যানার ব্যবহার করে

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম শীর্ষ নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে বসুন্ধরা গ্রুপ থেকে কোটি টাকার ফান্ডিং নেওয়া এবং বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ব্যানার ব্যবহার করে অর্থ বরাদ্দের ব্যবস্থা করে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানে আলম অপু নামের এক অ্যাক্টিভিস্টের একটি পোস্ট এবং তার বিপরীতে হাসনাত আবদুল্লাহর দেওয়া প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগকারীর দাবি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কেরা আন্দোলনের স্পিরিট ব্যবহার করে অভিনব কায়দায় বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠান থেকে বিপুল অর্থ বা ফান্ডিং সুবিধা নিয়েছেন।

জানে আলম অপু তার ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির ব্যানারে একটি বড় ইফতার মাহফিল আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়ে তারা দীর্ঘদিন কাজ করছিলেন। চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের ভাড়া বাবদ প্রায় ৩ লাখ টাকা না থাকায় তারা তৎকালীন গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান, আসিফ মাহমুদ এবং নাহিদ ইসলামের কাছে গেলেও কোনো আর্থিক সহযোগিতা পাননি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের অসহযোগিতার কারণে তারা বিকল্প স্পন্সর খুঁজতে বাধ্য হন।

অপু তার পোস্টে লেখেন, সেই লক্ষ্যে একটা আয়োজক কমিটি গঠন করি। সেই আয়োজক কমিটির একজন হাসনাত আব্দুল্লাহর সাথে যোগাযোগ করলে হাসনাত আব্দুল্লাহ এই চিঠি তাকে দেয় এবং বসুন্ধরায় ফোন করে বলে দেয়। এই চিঠির রেফারেন্স ধরেই আমরা দফায় দফায় বসুন্ধরার সাথে মিটিং করি এবং প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন করি পুরোপুরি বসুন্ধরার টাকায়।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, এই ইফতার মাহফিলের পর মাসব্যাপী দেশের বিভিন্ন স্থানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যত ইফতার হয়েছে, তার সমস্ত খাবার সরবরাহ করেছে বসুন্ধরা গ্রুপ। এমনকি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে উমামা ফাতেমার উদ্যোগে আয়োজিত কেন্দ্রীয় ইফতার মাহফিলের ভিআইপি প্যাকেটের (প্রতি প্যাকেট ২০০০ টাকা বাজেট) খরচও বসুন্ধরা বহন করেছে বলে তিনি দাবি করেন।

পোস্টে হাসনাত আবদুল্লাহর ব্যক্তিগত আচরণ নিয়ে সমালোচনা করে অপু লেখেন, ডিবি থেকে ছাড়া পাওয়ার পর থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত হাসনাত আব্দুল্লাহ একটা কোনো মিছিল মিটিং প্রোগ্রামে ছিল এমন কোনো প্রমাণ কেউ দিতে পারবে না। রাস্তায় যখন আমাদের উপর গুলি চলে হাসনাতরা তখন বিভিন্ন এম্বাসি, ক্যান্টনমেন্ট আর মন্ত্রীপাড়ায় নেগোসিয়েশন করে বেড়াইছে।

জানে আলম অপুর এই বিস্ফোরক পোস্টের জবাবে কমেন্ট বক্সে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি উত্থাপিত সমস্ত অভিযোগকে সম্পূর্ণ ‘মিথ্যাচার’ হিসেবে অভিহিত করে ৫টি সুনির্দিষ্ট পয়েন্টে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করার চেষ্টা করেছেন।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আপনার সাথে আমার এই পর্যন্ত কখনো কথাও হয়নি।আপনি যেই চিঠি পোস্ট দিয়েছেন সেটি আমি আজকেই প্রথম দেখেছি। আমার জীবনে বসুন্ধরা রিলেটেড কোন প্রোগ্রামে নিজেও যাইনি এবং বসুন্ধরা রিলেটেড প্রোগ্রাম করতে কাউকে সহায়তাও করিনি। আপনার চিঠিতে আমাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এমন অভিনন্দন, আমন্ত্রণ, শুভেচ্ছা প্রতিনিয়তই বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন করে থাকে। এই চিঠির কোন অংশে রয়েছে যে আমি বসুন্ধরার প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ কিংবা প্রোগ্রাম করতে সহায়তা করেছি?

বসুন্ধরা গ্রুপের সাথে কোনো ধরনের আর্থিক বা ব্যক্তিগত লেনদেনের সম্পর্ক থাকার কথা জোরালোভাবে অস্বীকার করে হাসনাত আবদুল্লাহ একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন। তিনি বলেন, ক্ষমতাসীন সরকার তার নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, তদন্ত সংস্থা কিংবা কেউ যদি প্রমান করতে পারে বা নূন্যতম অডিও, ভিডিও বা নথিপত্র দিতে পারে আমি বসুন্ধরা গ্রুপ থেকে এক পয়সার সহায়তা বা তাদের সাথে কখনো কোন ধরনের যোগাযোগ হয়েছে/ছিল/আছে তাহলে আমি সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করব।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই কাদা ছোড়াছুড়ি ও কোটি টাকার করপোরেট ফান্ডিংয়ের অভিযোগ নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থী ও রাজনৈতিক সচেতন মহলে তীব্র সমালোচনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। নেটিজেনদের একাংশ এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন