সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগে পদ পেলেন না আলোচিত স্বপ্নীল, নতুন কমিটিকে ‘অস্বীকার’ করে ক্ষোভ প্রকাশ

মাহমুদুল হাসানকে সভাপতি ও হৃদয় মিয়াকে সাধারণ সম্পাদক করে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ অবশেষে যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণা করেছে। তবে এই কমিটিতে বহুল আলোচিত নেতা স্বপ্নীল

মাহমুদুল হাসানকে সভাপতি ও হৃদয় মিয়াকে সাধারণ সম্পাদক করে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ অবশেষে যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণা করেছে। তবে এই কমিটিতে বহুল আলোচিত নেতা স্বপ্নীল খান কোনো পদ না পাওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পক্ষে-বিপক্ষে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

শুক্রবার (৫ জুন) দিবাগত রাতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।

কমিটি প্রকাশের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভে এসে ক্ষোভ উগরে দেন পদবঞ্চিত নেতা স্বপ্নীল খান। লাইভের ক্যাপশনে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, আমি ছাত্রলীগ এর পদ পাওয়ার যোগ্য না! তাই আমারে রাখে নাই। আর আমি এই কমিটি মানি ও না। তার এই লাইভের পর নতুন কমিটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক আরও উস্কে গেছে।

সোশ্যাল মিডিয়ার একাধিক পোস্ট বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, নেটিজেন ও কর্মীদের একাংশ স্বপ্নীল খানকে ‘ত্যাগী নেতা’ দাবি করে তাকে কমিটিতে না রাখায় কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সমালোচনা করছেন। অন্যদিকে, অপর পক্ষ দাবি করছে পূর্বে কোনো বড় পদে না থাকা সত্ত্বেও স্বপ্নীল খান কেবল ‘সভাপতি’ পদ ছাড়া অন্য কোনো পদে থাকতে রাজি না হওয়াটা সম্পূর্ণ অসাংগঠনিক। একই সাথে, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের সাথে ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের স্ক্রিনশট জনসমক্ষে প্রকাশ করায় তার কর্মকাণ্ডকে চরম শৃঙ্খলাবিরোধী বলেও মন্তব্য করছেন অনেকে।

এই বিষয়ে ছাত্রলীগ কর্মী সৈয়দ সুপন অগস্তিয়া মিজান ফেসবুকে লিখেছেন, প্রেসিডেন্ট পদে স্বপ্নীলের পাশাপাশি আরেকজন গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থী ছিলেন মাহমুদুল হাসান। তিনি হয়তো সোশ্যাল মিডিয়ায় খুব বেশি সরব নন, কিন্তু মাঠের রাজনীতিতে তার সক্রিয়তা ও অবদান নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। স্বপ্নীলকে অন্য কোনো পদে রাখলেও তিনি সেটি গ্রহণ করতেন কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। কারণ, বর্তমানে যেমন তিনি কমিটিকে অস্বীকার করছেন, অন্য পদ পেলেও পদত্যাগ করে নতুন বিতর্ক বা বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

স্বপ্নীল খানকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্ক নিয়ে মুখ খুলেছেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই নেতা।

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান বলেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কমিটিতে সবসময় যোগ্য ও ত্যাগীদের মূল্যায়ন করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগের ক্ষেত্রেও সেটাই হয়েছে। তবে স্বপ্নীলের যে বিষয়টা নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে সেটা অনাকাঙ্ক্ষিত। তাকে সভাপতি পদের বাইরে অন্য পদে, এমনকী কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাথেও যুক্ত হতে বলা হয়েছিল; কিন্তু সেটা সে গ্রহণ করেনি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন বলেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ একটি নিয়মতান্ত্রিক সংগঠন। গঠনতন্ত্র ও কর্মীদের সংগঠনের সাথে কাজের ভিত্তির ওপর মূল্যায়ন করেই কমিটি দেওয়া হয়। স্বপ্নীলকে তার যোগ্যতা অনুযায়ীই পদের কথা বলা হয়েছিল, কিন্তু সে সেটা নিতে রাজি ছিল না।

বহির্বিশ্বে ছাত্রলীগের ইমেজ বৃদ্ধিতে এবং সভা-সেমিনার করার ক্ষেত্রে নতুন কমিটির যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সাদ্দাম হোসেন আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতেই এই কমিটি করা হয়েছে। আশা করি তারা তাদের কাজের মাধ্যমেই নিজেদের যোগ্যতা ও দক্ষতার প্রমাণ দেবে।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন