সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

জামায়াত কর্মীর কোমরে ছিলো তিন বিদেশি পিস্তল

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় একটি নিয়মিত তল্লাশি চৌকিতে (চেকপোস্ট) মো. রহিম (২১) নামের এক যুবককে ৩টি বিদেশি পিস্তল, ৩টি ম্যাগাজিন ও ৮ রাউন্ড গুলিসহ গ্রেফতার করেছে

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় একটি নিয়মিত তল্লাশি চৌকিতে (চেকপোস্ট) মো. রহিম (২১) নামের এক যুবককে ৩টি বিদেশি পিস্তল, ৩টি ম্যাগাজিন ও ৮ রাউন্ড গুলিসহ গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত রহিম স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সোমবার (৮ জুন) সন্ধ্যায় উপজেলার গোপালপুর-বাংলাবাজার সড়কের বায়তুন নুর জামে মসজিদের সামনের চেকপোস্টে মোটরসাইকেল আরোহী রহিমের দেহ তল্লাশি করে এই বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ জব্দ করা হয়।

গ্রেফতারকৃত মো. রহিম বেগমগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বসন্তবাগ গ্রামের ভূঁইয়া বাড়ির জসিম উদ্দিনের ছেলে। এই ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ধারায় অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, জেলাজুড়ে চলমান বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে সোমবার সন্ধ্যায় বায়তুন নুর জামে মসজিদের সামনে একটি অস্থায়ী চেকপোস্ট বসানো হয়। এ সময় একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেলে করে চেকপোস্ট অতিক্রম করার চেষ্টা করলে রহিমকে থামার নির্দেশ দেয় পুলিশ।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মোটরসাইকেলটি থামানোর পর যুবকের আচরণ সন্দেহজনক মনে হয়। পরে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা তাঁর দেহ তল্লাশি করলে কোমরে অত্যন্ত সুকৌশলে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় ৩টি অত্যাধুনিক বিদেশি পিস্তল, ৩টি ম্যাগাজিন এবং ৮ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করেন। এ সময় অস্ত্র বহনে ব্যবহৃত ওই রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেলটিও জব্দ করা হয়েছে।

এদিকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার হওয়া যুবক রহিমের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে এলাকায় নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, রহিম সক্রিয়ভাবে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, বিগত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি নোয়াখালী-৩ (বেগমগঞ্জ) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মাওলানা বোরহান উদ্দিনের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা ও বিভিন্ন সাংগঠনিক কার্যক্রমে বেশ সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। তবে এ বিষয়ে স্থানীয় জামায়াত নেতৃত্বের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অস্ত্রের এই বড় চালানের উৎস কী এবং এগুলো কোনো বিশেষ নাশকতা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছিল কি না—তা খতিয়ে দেখতে পুলিশী জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্ত শুরু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে বেগমগঞ্জ থানা পুলিশ।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন