সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

আধিপত্য বিস্তার নিয়ে কোন্দল: স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা খুনের ঘটনায় যুবদল নেতা বহিষ্কার

রাজধানীর মৌচাক এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা বিল্লাল হোসেন তালুকদার (৫৭) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয়তাবাদী

রাজধানীর মৌচাক এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা বিল্লাল হোসেন তালুকদার (৫৭) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয়তাবাদী যুবদল। এই খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে যুবদলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য ও রমনা থানা যুবদলের আহ্বায়ক দিদারুল ইসলাম বাবুকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সাথে রমনা থানা যুবদলের বর্তমান কমিটিও বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

সোমবার (৮ জুন) রাতে যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি (দপ্তরের দায়িত্বে) নুরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থার কথা জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যুবদলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং রমনা থানা যুবদলের আহ্বায়ক দিদারুল ইসলাম বাবুর বিরুদ্ধে ওঠা সুনির্দিষ্ট ও গুরুতর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই আদেশে রমনা থানা যুবদলের কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন এই সিদ্ধান্তের অনুমোদন দিয়েছেন।

এর আগে সোমবার রাত ৮টার দিকে রাজধানীর মৌচাক এলাকায় আনারকলি মার্কেটের সামনে এক সালিশি বৈঠক চলাকালে স্বেচ্ছাসেবক দলের রমনা থানার সাবেক আহ্বায়ক ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য বিল্লাল হোসেন তালুকদার ছুরিকাঘাতে নিহত হন।

নিহতের ভাগনে মো. মোবারক হোসেন আকাশের ভাষ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যায় আনারকলি মার্কেটের সামনে স্থানীয় কিছু ছেলে আমাকে মারধর করে। বিষয়টি মীমাংসা করার জন্য আমি আমার মামা বিল্লাল হোসেন তালুকদারকে ঘটনাস্থলে ডেকে আনি। রাত ৮টার দিকে মার্কেটের সামনে এই নিয়ে সালিশি বৈঠক বসলে একপর্যায়ে রমনা থানা যুবদলের আহ্বায়ক দিদারুল ইসলাম বাবু এবং সদস্যসচিব লুৎফরের সঙ্গে মামার তীব্র বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। এর জের ধরে দিদারুলের নেতৃত্বে থাকা কয়েকজন হঠাৎ মামাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়।

ছুরিকাঘাতের পর রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় বিল্লাল হোসেনকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে হত্যাকাণ্ডের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। পুরো বিষয়টি ইতিমধ্যেই রমনা থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের পর মৌচাক ও রমনা এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান শুরু হয়েছে এবং পরবর্তী আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন