সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে বিক্ষোভকারীদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে উত্তপ্ত আজাদ কাশ্মীর: নিহত অন্তত ৩০ জন

পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরের রাওয়ালকোটে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সরকার-বিরোধী বিক্ষোভকারীদের দফায় দফায় তীব্র সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে পুরো অঞ্চল। আন্দোলন দমনে প্রশাসনের ব্যাপক

পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরের রাওয়ালকোটে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সরকার-বিরোধী বিক্ষোভকারীদের দফায় দফায় তীব্র সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে পুরো অঞ্চল। আন্দোলন দমনে প্রশাসনের ব্যাপক লাঠিচার্জ ও গুলিবর্ষণে বেশ কিছু মানুষ হতাহত হয়েছেন।

গত কয়েকদিনের এই সংঘাত-সহিংসতায় ৩০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং প্রায় ২০০ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে বিক্ষোভকারীরা। তবে সরকারি কর্মকর্তারা এই পরিসংখ্যান অস্বীকার করে জানিয়েছেন, সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা ১১ এবং আহত হয়েছেন ৭০ জন।

আজাদ কাশ্মীরে দীর্ঘদিন ধরে বাড়তে থাকা লাগামহীন মূল্যস্ফীতি, বিদ্যুতের অতিরিক্ত শুল্ক, ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব এবং রাজনীতিতে স্থানীয়দের আরও বেশি প্রতিনিধিত্বের দাবি নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে প্রতিবাদে সরব ছিল নাগরিক সংগঠন ‘জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি)’। তবে গত সপ্তাহে আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষ এই সংগঠনটিকে হুট করে ‘নিষিদ্ধ’ ঘোষণা করার পরই ক্ষোভের আগুন দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে। প্রশাসনের দাবি ছিল, ওই অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থেই জেএএসি-কে নিষিদ্ধ করা জরুরি ছিল।

বিক্ষোভের মূল সূত্রপাত হয় রাওয়ালকোটে। সেখানে স্থানীয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখানোর সময় গত শুক্রবার রাতে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে এক ব্যবসায়ী নিহত হন। এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পুরো অঞ্চলে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, যা গত রবিবার বড় ধরনের সংঘর্ষে রূপ নেয়।

পুলিশ জানায়, রবিবার স্থানীয় একটি হাসপাতালের মর্গের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছিলেন বেশ কিছু প্রতিবাদী। ওই মর্গেই রাখা ছিল পুলিশের গুলিতে নিহত সেই ব্যবসায়ীর মরদেহ। পুঞ্চ সেক্টরের কমিশনার সর্দার ওয়াহিদ খান জানান, হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে ও পরিস্থিতি দমন করতে পুলিশ গুলি চালালে সেখানে আরও ছয়জন নিহত হন।

যদিও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, নিহতের প্রকৃত সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি। অন্যদিকে পুলিশের পাল্টা দাবি, বিক্ষোভকারীরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে স্বয়ংক্রিয় রাইফেল থেকে গুলি এবং ককটেল-বোমা ছুড়েছে।

রাওয়ালকোট প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা সরদার ওয়াহিদ খান বিক্ষোভ দমনাভিযান চলাকালে একাধিক বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বড় ধরনের বিক্ষোভের আশঙ্কায় গত মঙ্গলবার থেকেই আজাদ কাশ্মীর কর্তৃপক্ষ সেখানে ফেডারেল প্যারামিলিটারি পুলিশ মোতায়েন করেছে। একই সঙ্গে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে ভ্রমণ নির্দেশিকাও জারি করা হয়েছে।

বর্তমানে রাওয়ালকোটে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন। সন্দেহভাজন এলাকাগুলোতে চলছে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান। এছাড়া বিক্ষোভের খবর ও গুজব ছড়ানো রোধ করতে অঞ্চলের বেশ কিছু অংশে ইন্টারনেট ও মোবাইল পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত কয়েক মাস ধরেই আজাদ কাশ্মীরে বিভিন্ন নাগরিক সুবিধা ও অধিকার নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দানা বাঁধছিল। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো উভয়পক্ষকে অনতিবিলম্বে আলোচনায় বসে শান্তিপূর্ণ উপায়ে এই বিরোধ মেটানোর জোর আহ্বান জানাচ্ছে।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন