সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের অর্থবিল অনুমোদিত

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের অর্থবিলে স্বাক্ষর করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে তাঁর অফিসকক্ষে তিনি এই বিলে স্বাক্ষর করেন।

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের অর্থবিলে স্বাক্ষর করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে তাঁর অফিসকক্ষে তিনি এই বিলে স্বাক্ষর করেন।

এর আগে ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বিশাল বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

নতুন বাজেটে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে সামগ্রিক আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ঘাটতি দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।

বাজেটের এই বিশাল ঘাটতি পূরণে সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক—উভয় উৎসের ওপরই ভরসা রাখছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘাটতি মেটানো হবে যেভাবে, বৈদেশিক উৎস (ঋণ ও অনুদান) ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা। অভ্যন্তরীণ উৎস ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা। ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণ ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা। সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য খাত ১৫ হাজার কোটি টাকা।

নতুন অর্থবছরে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার ধরা হয়েছে ৬৮ লাখ ৩০ হাজার ২৪ কোটি টাকা। সরকারের লক্ষ্য—আগামী অর্থবছরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করা এবং মূল্যস্ফীতি লাগাম টেনে ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা।

বাজেটে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে বরাদ্দের বিবরণী তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে ভূমি মন্ত্রণালয়ের জন্য ২৪৩৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যদিকে, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বহুমুখী উদ্যোগের অংশ হিসেবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ১৭ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অবদানের কথা বিশেষভাবে স্মরণ করেন। চলতি ২০২৬ সালের মে মাসে প্রবাসীদের পাঠানো মাসিক রেমিট্যান্স ৩.৭৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়, যা দেশের ইতিহাসে একক কোনো মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহের রেকর্ড।

সংসদে অর্থমন্ত্রী বলেন,রেমিট্যান্সের এই অভূতপূর্ব প্রবাহ আমাদের গণতান্ত্রিক সরকারের প্রতি প্রবাসী বাংলাদেশিদের গভীর আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন। আমরা আশা করছি প্রবাস আয়ের এই ইতিবাচক ধারা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।

বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর এই ধারা ধরে রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে ২.৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনা আগামী অর্থবছরেও অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন