সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

ডিসি কার্যালয় প্রাঙ্গণে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক মাহাদীকে পেটাল ছাত্রদল

হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক (ডিসি) কার্যালয় প্রাঙ্গণে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা শাখার সদস্যসচিব মাহাদী হাসান ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হাতে বেদম মারধরের শিকার হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে

হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক (ডিসি) কার্যালয় প্রাঙ্গণে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা শাখার সদস্যসচিব মাহাদী হাসান ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হাতে বেদম মারধরের শিকার হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভেতরে প্রকাশ্যে এই অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটে।

গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। হামলার বিষয়টি মাহাদী হাসানের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভ ও পোস্টের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে।

এর আগে গতকাল বুধবার (১০ জুন) দুপুরে শহরের বৃন্দাবন সরকারি কলেজের সামনে ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের ধাওয়ার মুখে পড়েছিলেন মাহাদী। সে সময় পরিস্থিতি ‘বেগতিক’ দেখে তিনি দৌড়ে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় গিয়ে আশ্রয় নেন। থানায় গিয়ে রক্ষা পেলেও আজ আর শেষ রক্ষা হয়নি; খোদ সরকারি দপ্তরের ভেতরেই হামলার শিকার হলেন এই সমন্বয়ক।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ডিসি অফিসের ভেতরেই মাহাদীর ওপর চড়াও হন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সম্প্রতি মাহাদী হাসান তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে একটি রাজনৈতিক স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমালোচনা করেন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রশংসা করেন। জিয়াউর রহমানকে নিয়ে করা এই সমালোচনা সহজভাবে নেয়নি জেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। মূলত এই ক্ষোভ থেকেই তাঁর ওপর পরপর দুই দিন হামলার ঘটনা ঘটল।

গতকাল বুধবারের ধাওয়ার ঘটনা প্রসঙ্গে মাহাদী হাসান ফেসবুক লাইভে এসে বলেছিলেন, ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিয়ে ইজিবাইকে ফেরার পথে ছাত্রদলের কর্মীরা তাকে ধাওয়া করে, যার কারণে তিনি থানায় আশ্রয় নেন।

তবে জেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে গতকাল এই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করা হয়েছিল, এমন কোনো ঘটনাই ঘটেনি এবং মাহাদী ‘নিজের গুরুত্ব বাড়ানোর জন্য’ মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছেন। গতকাল পুলিশও প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা পায়নি বলে জানিয়েছিল।

উল্লেখ্য, গত ২ জানুয়ারি শায়েস্তাগঞ্জ থানায় গিয়ে ওসিকে হুমকি দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে আলোচনায় আসেন মাহাদী হাসান। ওই ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা গিয়েছিল,বানিয়াচং থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে কিন্তু আমরা জ্বালাই দিয়েছিলাম।

এই ঘটনার পর থেকেই স্থানীয় রাজনীতিতে মাহাদীকে নিয়ে নানা বিতর্ক ও উত্তেজনা চলছিল, যা সর্বশেষ আজ ডিসি অফিসে সশরীরে হামলার মধ্য দিয়ে রূপ নিল।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন