সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে বিক্ষোভে সেনাবাহিনীর গুলিতে নিহত ১৬

পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের (পিওকে) রাওয়ালকোটের ঈদগাহ ময়দানে বিক্ষোভকারীদের ওপর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর নির্বিচার গুলিবর্ষণে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও ৩৭

পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের (পিওকে) রাওয়ালকোটের ঈদগাহ ময়দানে বিক্ষোভকারীদের ওপর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর নির্বিচার গুলিবর্ষণে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও ৩৭ জন।

আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এই ঘটনার পর পুরো পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর জুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে বিভিন্ন নাগরিক ও অর্থনৈতিক দাবিতে অঞ্চলটিতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে আসছিল ‘জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি’ (জেএএসি) নামের একটি সামাজিক সংগঠন। তবে আন্দোলন দমনে আলোচনার পথ না খুঁজে পাকিস্তান সরকার উল্টো সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। সরকারের এই দমনমূলক সিদ্ধান্তের পর সাধারণ মানুষের ক্ষোভের তীব্রতা আরও বেড়ে যায় এবং বিক্ষোভ আরও গতি পায়।

বিক্ষোভ দমনে স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনী শুরু থেকেই কঠোর অবস্থান নেয়। এর আগে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে বিক্ষোভ দমনের চেষ্টাকালে এক ব্যবসায়ী নিহত হলে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। গত রবিবারও বিক্ষোভকারীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনী ও আধা-সামরিক বাহিনীর নির্বিচার গুলিবর্ষণে ৩০ জন হতাহত এবং দুই শতাধিক মানুষ আহত হন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, রাওয়ালকোটের এই সহিংসতা এখন শুধু একটি অঞ্চলে সীমাবদ্ধ নেই। এটি দ্রুত মুজাফফরাবাদ, বাগ এবং নীলম উপত্যকার মতো বড় বড় অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে।

উভয় পক্ষের মুখোমুখি অবস্থানে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে কাশ্মীর। স্থানীয় প্রশাসনের দাবি,বিক্ষোভকারীরা আইন নিজের হাতে তুলে নিয়েছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে পাথর ও পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই বলপ্রয়োগ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, আন্দোলনকারী সংগঠন ও সাধারণ মানুষ পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে পাকিস্তানি সেনারা নির্বিচারে যুদ্ধাস্ত্র ব্যবহার করছে এবং সাধারণ কাশ্মীরিদের ওপর ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুরো অঞ্চলে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হলেও ক্ষোভের আগুন এখনো কমেনি।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন