সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

ট্রাম্পের ‘মূল্যস্ফীতি প্রীতি’ মন্তব্যে তোলপাড়

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক সংঘাতের জেরে মার্কিন অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে। আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দেশটিতে গত তিন বছরের মধ্যে

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক সংঘাতের জেরে মার্কিন অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে। আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দেশটিতে গত তিন বছরের মধ্যে মূল্যস্ফীতি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বিতর্কিত মন্তব্য দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনকে নতুন করে উত্তপ্ত করে তুলেছে। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমি মুদ্রাস্ফীতি ভালোবাসি’।

ইউএস ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকস (বিএলএস)-এর তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিলের ৩.৮ শতাংশ থেকে বেড়ে চলতি বছরের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক মূল্যস্ফীতির হার ৪.২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতির ওপর এই প্রচণ্ড চাপ তৈরি হয়েছে।

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্পের মুখ থেকে এই বিতর্কিত মন্তব্যটি আসে। তিনি বলেন, আমি এটা ভালোবাসি। সংখ্যাগুলো দুর্দান্ত। জানেন আমি আসলে কী ভালোবাসি? আমি মূল্যস্ফীতিকে ভালোবাসি।

তবে এই মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ার পর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন প্রেসিডেন্ট। পরবর্তীতে নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, তাঁর বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তিনি মূল্যস্ফীতি বাড়াকে সমর্থন করেননি, বরং যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি না বাড়ায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ট্রাম্পের ভাষায়, যুদ্ধ চলার পরও মূল্যস্ফীতির হার প্রত্যাশার চেয়ে কম। যুদ্ধ শেষ হলে এটি আরও কমে যাবে এবং সংঘাত শুরুর আগের সময়ের চেয়েও নিচে নেমে আসবে।

একই সঙ্গে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান এবং ইরানের জ্বালানির ওপর চাপ সৃষ্টির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পরিস্থিতি স্বাভাবিক দাবি করলেও বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। মার্কিন অটোমোবাইল সংগঠন এএএ-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন পেট্রলের গড় দাম ৪.১৫ ডলারে পৌঁছেছে। অথচ গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন হামলা শুরু হওয়ার আগে এই দাম ছিল মাত্র ২.৯৮ ডলার।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয় গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ দিয়ে। এই নৌপথে অস্থিরতার কারণে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় জ্বালানির বাজারে এই সংকট তৈরি হয়েছে। সরকারি প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু জ্বালানি নয়, দেশটিতে বিমান ভাড়া, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যক্তিগত সেবা, বিনোদন ও যোগাযোগ খাতেও খরচ লাগামহীনভাবে বেড়েছে।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ফেডারেল রিজার্ভ’ (ফেড) সুদের হার আরও বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা। বর্তমানে দেশটিতে সুদের হার ৩.৫ থেকে ৩.৭৫ শতাংশের মধ্যে রয়েছে।

এদিকে ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে পুঁজি করে বিরোধী ডেমোক্র্যাট নেতারা তীব্র আক্রমণ শুরু করেছেন। মার্কিন সিনেটের ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্পের সমালোচনা করে লিখেছেন, “সাধারণ মানুষের প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবজ্ঞার কোনো সীমা নেই।” মধ্যবর্তী নির্বাচনের মুখে এই মূল্যস্ফীতি ও ট্রাম্পের মন্তব্য রিপাবলিকান শিবিরকে বেশ চাপে ফেলবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন