দীর্ঘদিন ধরে চলা চরম যুদ্ধাবস্থার অবসান এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঘোষিত দ্বিপক্ষীয় চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আজ সোমবার (১৫ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় তিনি এই প্রতিক্রিয়া জানান।
ভারতীয় গণমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিন-এর এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
এক্স-এর পোস্টে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বিশ্বশান্তি ও বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতার ওপর জোর দিয়ে লেখেন,পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ থামাতে রাজি হয়েছে ইরান ও আমেরিকা। আমি এই দ্বিপক্ষীয় সিদ্ধান্তকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই। এই দীর্ঘ যুদ্ধের জেরে গোটা বিশ্বে তীব্র আর্থিক সংকট দেখা দিয়েছে এবং অনেক নিরীহ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
তিনি আরও আশা প্রকাশ করে বলেন, ভারত বিশ্বাস করে এই চুক্তি অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতাবস্থা ফিরিয়ে আনবে। একই সঙ্গে সমুদ্রপথে আন্তর্জাতিক চলাচল এবং বাণিজ্যের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে। আশা করি, আগামী দিনে যাবতীয় সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে মেটানো সম্ভব হবে।
সংবাদ প্রতিদিন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন-ইরান চলমান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক অন্য দেশগুলোর মতো ভারতও অর্থনৈতিক ও কৌশলগতভাবে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতমুখী বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে সাময়িক অনুমতি মিললেও, দীর্ঘ অচলাবস্থার কারণে ভারতে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছিল। যার ফলে দেশটিতে নির্বাচনের পর দফায় দফায় পেট্রল ও ডিজেলের দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছিল সরকার। এই চুক্তির ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম স্বাভাবিক হবে এবং ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে স্বস্তি ফিরবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
উল্লেখ্য, মাত্র কয়েকদিন আগেই ওমান উপকূল ও হরমুজ প্রণালীর প্রবেশদ্বারে একটি তেল ট্যাঙ্কারে মার্কিন বাহিনীর হামলায় ৩ জন ভারতীয় নাবিক নিহত হন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির মধ্যে তীব্র কূটনৈতিক টানাপোড়েন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকা ও ইরানের এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি এবং সমুদ্রপথ উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিহত ভারতীয় নাবিকদের পরিবার ও ভারতের সমুদ্র-বাণিজ্য খাতের জন্য একটি বড় স্বস্তির খবর।
এই চুক্তির ফলে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল আবার সচল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।