সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

‘সাঁকোটা দুলছে’ সিনেমার সেরা সিনেমাটোগ্রাফির পুরস্কার জয়

প্রথম প্রযোজনাতেই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেল বাংলাদেশের স্বাধীন চলচ্চিত্র ‘সাঁকোটা দুলছে’ (দ্য ব্লাইন্ড গার্ল অ্যান্ড অ্যান এলিফ্যান্ট)। বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সাংহাই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ২৮তম আসরে

প্রথম প্রযোজনাতেই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেল বাংলাদেশের স্বাধীন চলচ্চিত্র ‘সাঁকোটা দুলছে’ (দ্য ব্লাইন্ড গার্ল অ্যান্ড অ্যান এলিফ্যান্ট)। বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সাংহাই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ২৮তম আসরে ‘এশিয়ান নিউ ট্যালেন্ট’ বিভাগে সেরা সিনেমাটোগ্রাফির পুরস্কার জিতে নিয়েছে ছবিটি।

চলচ্চিত্রটির চোখধাঁধানো চিত্রগ্রহণের জন্য এই অনন্য সম্মান অর্জন করেছেন তরুণ চিত্রগ্রাহক সামিউল করিম সুপ্তক। তবে তিনি উৎসবে সশরীরে উপস্থিত না থাকায় তাঁর পক্ষে ঐতিহ্যবাহী এই পুরস্কার গ্রহণ করেন চলচ্চিত্রটির পরিচালক ইশতিয়াক আহমাদ জিহাদ এবং প্রযোজক ও অভিনেতা মনোজ প্রামাণিক।

গত শনিবার (২০ জুন) রাতে সাংহাই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের জমকালো সমাপনী অনুষ্ঠানে এই বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। আন্তর্জাতিক এই বড় মঞ্চে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের এমন গৌরবোজ্জ্বল অর্জনকে ঘিরে দেশীয় চলচ্চিত্র অঙ্গন ও সংশ্লিষ্ট মহলে বইছে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস।

রেড কার্পেটে বাংলাদেশ ও স্বাধীন চলচ্চিত্রের সংগ্রাম

পুরস্কার গ্রহণের পর উচ্ছ্বসিত প্রযোজক মনোজ প্রামাণিক বলেন, “আমাদের চলচ্চিত্র, আমার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান মনপাচিত্র এবং সর্বোপরি বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক এই মঞ্চে উপস্থাপন করতে পেরে আমি ভীষণ গর্বিত ও আনন্দিত।”

চলচ্চিত্রটি নির্মাণের পেছনের দীর্ঘ লড়াইয়ের কথা স্মরণ করে তিনি আরও বলেন, “এটি ছিল এক অসাধারণ পথচলা, আর সেই যাত্রা এখনো অনেক বাকি। একদিন আমি এই চলচ্চিত্র নির্মাণের পুরো নেপথ্য গল্পটা সবাইকে বলতে চাই—আমাদের সেই দিনগুলোর যাত্রা, সংগ্রাম, কষ্ট, ত্যাগ, বাধা আর আনন্দের মুহূর্তগুলোর কথা।” মনোজ প্রামাণিক মনে করেন, এই অভিজ্ঞতা শুধু একটি সিনেমার কাজ নয়, বরং এটি বাংলাদেশের স্বাধীন চলচ্চিত্রের বাস্তবতা এবং সমকালীন সৃজনশীল চ্যালেঞ্জগুলো বোঝারও একটি বড় মাধ্যম।

যে গল্পে তৈরি ‘সাঁকোটা দুলছে’

বাংলাদেশের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘মনপাচিত্র’ এবং জার্মানির ‘মোগাডার ফিল্ম’-এর যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত হয়েছে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই চলচ্চিত্রটি। ‘সাঁকোটা দুলছে’ সিনেমার মূল গল্প আবর্তিত হয়েছে গ্রামীণ বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটকে কেন্দ্র করে। যেখানে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে গ্রামীণ নারীর জীবন, সামাজিক রূঢ় বাস্তবতা এবং তাদের মনস্তাত্ত্বিক স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষার এক অনন্য আখ্যান।

প্রসঙ্গত, সাংহাই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবকে এশিয়ার অন্যতম শীর্ষ ও মর্যাদাপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসব হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সেখানে বিশ্বের নামী-দামী সব সিনেমার সাথে প্রতিযোগিতা করে বাংলাদেশের একটি স্বাধীন চলচ্চিত্রের এই আন্তর্জাতিক প্রাপ্তি দেশীয় সিনেমার বিশ্বজয়ের পালে নতুন হাওয়া দিল।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন