সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

আগামী ১০০ বছরেও দেশে আর গণঅভ্যুত্থান হবে না : রুমিন ফারহানা

বাংলাদেশে আগামী ১০০ বছরেও আর কোনো গণঅভ্যুত্থান হবে না বলে মন্তব্য করেছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে

বাংলাদেশে আগামী ১০০ বছরেও আর কোনো গণঅভ্যুত্থান হবে না বলে মন্তব্য করেছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে মানুষের যে স্বপ্ন ছিল, তার জন্য শেষবারের মতো মানুষ জীবন বাজি রেখেছিল। কিন্তু পরে যখন দেখা গেল এটি কতিপয় মানুষের নিজস্ব সম্পত্তি, দেশে উগ্রবাদের নতুন উত্থান এবং অদ্ভুতভাবে কিছু লোকের শতকোটি টাকার মালিক হয়ে যাওয়ার প্রকল্প; তখন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষ এ রকম গণঅভ্যুত্থানে যাওয়ার আগে কোটিবার চিন্তা করবে।

শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) আয়োজিত ‘গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনীতি: সংকট, সম্ভাবনা ও উত্তরণের পথ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

রুমিন ফারহানা অভিযোগ করে বলেন, গণঅভ্যুত্থানপরবর্তী সময়ে দেশে ভয়াবহ উগ্রবাদের উত্থান হয়েছে। এই পরিস্থিতি আগে জানলে কয়জন মানুষ রাস্তায় আন্দোলনে নামতেন, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। স্বতন্ত্র এই সংসদ সদস্য আরও বলেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে হিজাব পরা ও হিজাব ছাড়া নারীরা যেভাবে অংশ নিয়েছিলেন, পরবর্তী সময়ে সেই পরিবেশ কেন রক্ষা হলো না? চব্বিশের অভ্যুত্থানের ঠিক পরেই মুক্তিযুদ্ধের ম্যুরাল ও ভাস্কর্যগুলো কারা ভাঙল? এছাড়া একাত্তর আর চব্বিশকে কেন মুখোমুখি দাঁড় করানো হলো?

ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ১৯৪৭ সালের দেশভাগ, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ৯০–এর গণআন্দোলনের পরও দেশের মানুষ প্রতারিত হয়েছে। দেশের সাধারণ মানুষ বারবার রক্ত দিয়েছে এবং বারবারই প্রতারিত হয়েছে।

আলোচনা সভায় রাষ্ট্রসংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ুম বলেন, ৪৭, ৭১ ও ৯০ সালের আন্দোলনের পর জাতিগতভাবে দেশের মানুষ প্রতারিত হয়েছিল। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পরে প্রতারিত না হওয়ার ব্যাপারে সতর্ক থাকলেও আমরা ব্যর্থ হয়েছি। আন্দোলন পরবর্তী অংশীজনেরা বিভাজিত হয়ে পড়েছেন। কেউ কয়েকটা আসনের জন্য বিএনপির দিকে, আবার কেউ সংস্কারের দোহাই দিয়ে জামায়াতের দিকে চলে গেছেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ১২টি সংস্কার কমিশন গঠন করা হলেও পরে তা একটি ঐক্যমত কমিশনে সীমিত করে জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে ছোট করা হয়েছে। ফলে জুলাই সনদ আর রাষ্ট্র পুনর্গঠনের মূল প্রস্তাবনাগুলো বাস্তবায়ন করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জেএসডির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি তানিয়া রবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক হেলালুজ্জামান আহমেদ, জেএসডির সহসভাপতি নুরুল আখতার, সিরাজ মিয়া প্রমুখ। সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন