ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং আন্দোলনকারীদের উত্থাপিত অন্যান্য দাবি নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।
শনিবার (২৫ জুলাই) দিল্লিতে সরকারি প্রতিনিধিদলের সাথে আন্দোলনকারী দল সিজেপির তিন দফা বৈঠকের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ও বিভিন্ন দাবিতে দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে দীর্ঘদিন ধরে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছিল সিজেপি। আন্দোলনকারীদের জয় ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের খবর পৌঁছাতেই যন্তর মন্তরে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন আন্দোলনকারীরা। বিজয় পতাকা উড়িয়ে নাচে-গানে নিজেদের আন্দোলনকে তারা ‘স্বৈরাচারের পরাজয়’ হিসেবে আখ্যা দেন।
সরকারের প্রতিনিধিদল ও সিজেপির আলোচনা শেষে আয়োজিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা, কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং এবং সিজেপির দুই শীর্ষ মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা।
সংবাদ সম্মেলনে সিজেপির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, দেশজুড়ে আমাদের আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে যতগুলো এফআইআর (মামলা) দায়ের করা হয়েছিল, তার সবগুলোই অবিলম্বে প্রত্যাহার করা হবে বলে সরকার আমাদের লিখিত ও মৌখিকভাবে নিশ্চিত করেছে।
সিজেপির জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা আন্দোলন প্রত্যাহারের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে জানান, সরকারের সাথে তাঁদের আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল ৩টি প্রধান দাবি, এনটিএ ও নিট সংক্রান্ত অনিয়মের জের ধরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও আয়োজকদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সব আইনি মামলা প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে মামলা না দেওয়া। নিট পরীক্ষা বাতিলের জেরে হতাশায় যেসব শিক্ষার্থী প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের পরিবারকে প্রতি ১ কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ প্রদান করা।
আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, কিছুক্ষণ আগেই ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন, যার মাধ্যমে আমাদের প্রথম দাবিটি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলো। বাকি দাবিগুলো পূরণের প্রতিশ্রুতি মেলায় আমরা আন্দোলন স্থগিত করছি।
যৌথ সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ ও পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আবারও এক দফা উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।