সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

তৃতীয় এলএনজি টার্মিনাল: এবার আগ্রহ নিয়ে ঢাকায় চীনের সিএনইই

দেশে চলমান তীব্র গ্যাস সংকটের মধ্যেই বহুল আলোচিত ‘তৃতীয় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল’ (এফএসআরইউ) স্থাপনে নতুন মেরুকরণ তৈরি হয়েছে। বিলিয়ন ডলারের এই প্রকল্প বাস্তবায়নে এবার সরাসরি

দেশে চলমান তীব্র গ্যাস সংকটের মধ্যেই বহুল আলোচিত ‘তৃতীয় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল’ (এফএসআরইউ) স্থাপনে নতুন মেরুকরণ তৈরি হয়েছে। বিলিয়ন ডলারের এই প্রকল্প বাস্তবায়নে এবার সরাসরি মাঠে নেমেছে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চায়না ন্যাশনাল এনার্জি ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড (সিএনইই)।

তথ্য অনুযায়ী, চীনা সিএমসি গ্রুপের সহায়তায় সিএনইই বাংলাদেশে তাদের প্রস্তাবনা পেশ করতে মুখিয়ে আছে। এ লক্ষ্যে সিএনইইর একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল বর্তমানে রাজধানী ঢাকায় অবস্থান করছে। চলতি সপ্তাহেই জ্বালানি বিভাগের শীর্ষ নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ও কারিগরি প্রেজেন্টেশন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

সরকারের এক শীর্ষ পর্যায়ের নীতিনির্ধারকও এই চীনা প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দিচ্ছেন বলে জানা গেছে। তবে এর আগে পাঠানো ‘রিকোয়েস্ট ফর প্রপোজাল’ (আরএফপি) স্থগিত করে কেন সরাসরি চীনা দরদাতাকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

চীনা প্রতিষ্ঠানের এই তোড়জোড়ের মাঝেই বাতিল হওয়া আগের চুক্তি পুনর্বহালের জোর চেষ্টা চালাচ্ছে দেশীয় বিতর্কিত প্রতিষ্ঠান সামিট গ্রুপ। চলতি মাসেই পেট্রোবাংলাকে দেওয়া এক চিঠিতে ‘সামিট এলএনজি টার্মিনাল কোম্পানি’ প্রস্তাব দিয়েছে সরকার রাজি থাকলে তারা সমঝোতার ভিত্তিতে মাত্র ১৮ মাসের মধ্যে টার্মিনাল চালুর গ্যারান্টি দেবে। বিনিময়ে তারা হাইকোর্টে চলমান মামলা প্রত্যাহার করে নেবে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের মার্চে সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সামিটকে বিশেষ আইনের আওতায় এ কাজ দেওয়া হলেও, দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে ওই বছরের ৭ নভেম্বর অন্তর্বর্তী সরকার চুক্তিটি বাতিল করে। চুক্তি বাতিলের বিষয়টি সামিট আদালতে চ্যালেঞ্জ করলেও আদালত সম্প্রতি তাদের সমঝোতার আবেদন বাতিল করে দিয়েছেন এবং আগামী আগস্টের মাঝামাঝি মামলার পরবর্তী দিন ধার্য রেখেছেন। অতীত সরকারের সময় অতিরিক্ত সুবিধা পাওয়ার কারণে সামিটের এই নতুন প্রস্তাবে সরকারের খুব একটা আগ্রহ নেই বলে জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

দেশে দীর্ঘ চার বছর ধরে এই তৃতীয় এফএসআরইউ স্থাপনের চেষ্টা চললেও বারংবার তা থমকে গেছে। অন্তর্বর্তী সরকার সৌদি আরামকোর সঙ্গে সমঝোতা করতে চাইলেও তারা অতিরিক্ত সময় (৩০ মাস) ও কঠোর শর্ত দেওয়ায় বুয়েটের পর্যালোচনা কমিটির সুপারিশে আরামকোর সঙ্গে আলোচনা বাতিল হয়।

চলতি জুলাইয়ের শুরুতে ওমান, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, সৌদি আরবসহ ১২টি দেশের প্রতিষ্ঠানের কাছে আরএফপি পাঠানো হলেও অজ্ঞাত কারণে সেই পুরো আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়াটি স্থগিত করা হয়। প্রক্রিয়া স্থগিতের পরপরই চীনা প্রতিষ্ঠান সিএনইইর সরাসরি আগমন পুরো প্রকল্পটিকে নতুন মোড় দিয়েছে।

বর্তমানে দেশে প্রতিদিন প্রায় ৪০০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ মাত্র ২৬০ থেকে ২৬৫ কোটি ঘনফুট। দুটি বর্তমান ভাসমান টার্মিনালের একটিতে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় সারাদেশে সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।

পাঁচ শতাধিক শিল্প প্রতিষ্ঠান চার বছর আগে ডিমান্ড নোটের টাকা জমা দিয়েও গ্যাসের সংযোগ পাচ্ছে না। এ অবস্থায় তৃতীয় এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি হলেও ভূ-রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ, চীনের প্রস্তাব ও সামিটের আইনি জটিলতায় প্রকল্পটি ঘিরে ধোঁয়াশা থেকেই যাচ্ছে।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন