সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

সড়ক ব্যবস্থা ও সেবা প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুললেন প্রধানমন্ত্রীর কন্যা

সম্প্রতি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) কার্যালয়ে গিয়ে সশরীরে ড্রাইভিং টেস্ট দিয়ে লাইসেন্স পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। নিজের সেই অভিজ্ঞতা থেকে

সম্প্রতি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) কার্যালয়ে গিয়ে সশরীরে ড্রাইভিং টেস্ট দিয়ে লাইসেন্স পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। নিজের সেই অভিজ্ঞতা থেকে বাংলাদেশের বিদ্যমান সড়কব্যবস্থা, বিআরটিএর ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রক্রিয়া এবং সড়ক নিরাপত্তার নানাবিধ সীমাবদ্ধতা নিয়ে নিজের খোলামেলা ভাবনা তুলে ধরেছেন তিনি।

বুধবার (১২ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে জাইমা রহমান এসব পর্যবেক্ষণ ও প্রশ্ন তুলে ধরেন। পোস্টের সাথে তিনি নিজের শৈশবে খেলনা গাড়ির স্টিয়ারিং ধরে রাখার একটি স্মৃতিময় ছবিও যুক্ত করেন।

পোস্টে জাইমা রহমান জানান, ১০ বছরেরও বেশি সময় আগে লন্ডনে তিনি জীবনে প্রথমবার ড্রাইভিং পরীক্ষা দিয়েছিলেন। এরপর সম্প্রতি বাংলাদেশে গাড়ি চালানোর অনুমতির জন্য জীবনের দ্বিতীয় ড্রাইভিং টেস্ট দেন এবং দুই পরীক্ষাতেই প্রথমবারে উত্তীর্ণ হন।

তবে দুটি পরীক্ষার অভিজ্ঞতার তুলনা করে তিনি লেখেন, গাড়ি চালানোর বাস্তবতার জন্য একটি পরীক্ষা আমাকে যতটা প্রস্তুত করেছে, অন্যটি ততটা করেনি। এখানকার পুরো প্রক্রিয়াটির ভেতর দিয়ে যেতে যেতে আমি কেবল ড্রাইভিং টেস্ট বা লাইসেন্স নিয়ে ভাবিনি; ভেবেছি আমাদের সড়ক ব্যবহারের সামগ্রিক অভিজ্ঞতা এবং সড়ক নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাগুলোর সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক নিয়ে।

ঢাকার তরুণদের মৌলিক হতাশার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এমন একটি ব্যবস্থার ভেতর সাধারণ মানুষের কাছে নিয়ম মেনে চলার প্রত্যাশা করা হয়, যা সব সময় নিরাপদ বা অনুমানযোগ্য মনে হয় না।

বিআরটিএর অনেক সেবা ডিজিটাল করার উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও জাইমা রহমান এর কার্যকর বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, অনলাইনে শুরু হওয়া কোনো সমস্যার সমাধান যদি শেষ পর্যন্ত গিয়ে দাঁড়ায় ‘অফিসে এসে কথা বলুন’-এ, তাহলে সমস্যাটির সমাধান আসলে হয়নি। প্রতিটি অপ্রয়োজনীয় সশরীর যোগাযোগ দেরি, পক্ষপাত কিংবা ‘লেনদেনের নতুন সুযোগ’ তৈরি করে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, মানুষ ইচ্ছা করে আইন ভাঙতে চায় না; বরং সরকারি প্রক্রিয়া এতটাই জটিল যে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে দালালের শরণাপন্ন হয়। এর ফলে দুর্নীতি ব্যতিক্রম না হয়ে কাজ আদায়ের স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হয়েছে।

সড়ক নিরাপত্তায় বৈষম্যমূলক আইন প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলে জাইমা রহমান লেখেন, লাইসেন্স, ফিটনেস ও প্রশিক্ষণ নিয়ে চমৎকার সব নিয়ম করা যেতে পারে। কিন্তু নিয়ম যদি বেছে বেছে প্রয়োগ হতে দেখা যায়, মানুষ দ্রুতই সেসব নিয়মের প্রতি শ্রদ্ধা হারিয়ে ফেলে। একজন নতুন চালক তখন ভাবেন আমাকে বলা হচ্ছে নিয়ম মানা অপরিহার্য, অথচ চোখের সামনেই ফিটনেসবিহীন গাড়ি, বেপরোয়া চালনা আর নানা লঙ্ঘন দিব্যি চলছে। কেন?

২০১৮ সালে নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের ঐতিহাসিক আন্দোলনের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, আট বছর পরও সেই উদ্বেগগুলোর অনেকটাই রয়ে গেছে। তাই প্রশ্নটি আর এটি নয় যে ‘সড়ক নিরাপদ নয়’; প্রশ্নটি হলো সমস্যাগুলো আমরা আগেই চিহ্নিত করে দিয়েছি, ব্যবস্থাটি এখনো সেগুলো ঠিক করল না কেন?

সড়ক নিরাপত্তাকে কেবল গাড়ি, লাইসেন্স বা শাস্তির বিষয় হিসেবে না দেখে পথচারী, নারী, রিকশাচালক, ফুড ডেলিভারি রাইডার ও প্রতিবন্ধীদের বাস্তব অভিজ্ঞতাকে সামনে রেখে নীতি নির্ধারণের আহ্বান জানান তিনি।

পোস্টের শেষে প্রধানমন্ত্রীর কন্যা কয়েকটি মৌলিক প্রশ্ন উত্থাপন করে লেখেন, পরিচয় বা সংযোগ থাকুক বা না থাকুক, সবাই একই মানের পরিষেবা পাবে তা কীভাবে নিশ্চিত করা যাবে? কীভাবে আইন প্রয়োগকে ন্যায্য ও সামঞ্জস্যপূর্ণ করা যাবে? অভিযোগ জানানোকে কীভাবে নিরাপদ ও কার্যকর করা সম্ভব? এবং রাস্তাগুলোর ডিজাইন কীভাবে করা উচিত যাতে একটি সাধারণ ভুলের জন্য কারও জীবনহানি না ঘটে?

পরিবর্তন যদি আমরা সত্যিই চাই, তাহলে আমাদের ভাবনার কাঠামোটাই নতুন করে সাজাতে হবে, মন্তব্য করে পোস্টটি শেষ করেন জাইমা রহমান।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন