রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) বর্তমান পরিষদের ৩৯টি কর্মসূচি শেষ হলেও খরচের বিল-ভাউচার জমা দেওয়া নিয়ে অনিয়ম ও অনীহার অভিযোগ উঠেছে। কোষাধ্যক্ষ কার্যালয়ের নথি সূত্রে জানা গেছে, ৪২টি কর্মসূচির বিপরীতে গৃহীত ১ কোটি ২৯ লাখ ১৪ হাজার ৬৮৯ টাকার মধ্যে প্রায় ৬১ লাখ ৫০ হাজার ৪৬৮ টাকার কোনো বিল-ভাউচার এখনো জমা পড়েনি।
জিএস সালাউদ্দিন আম্মার সাত ধাপে ২৩ লাখ ৮৮ হাজার টাকা গ্রহণ করলেও ১৮ লাখ ৩৯ হাজার টাকার বিল-ভাউচার জমা দেননি। এর মধ্যে ভর্তি পরীক্ষার বুথ স্থাপন (৩ লাখ ২ হাজার টাকা), রাকসু সদস্যদের বাজেট (১৩ লাখ ৭৭ হাজার টাকা) এবং দাপ্তরিক খরচ (১ লাখ ৬০ হাজার টাকা) অন্তর্ভুক্ত।
ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ ১৩ লাখ ৪০ হাজার ৩২৪ টাকা উত্তোলন করে ১২ লাখ ৪০ হাজার ৪০০ টাকার খরচের হিসাব এখনো জমা দেননি।
ভিপি ও জিএস ছাড়াও রাকসুর এজিএস এবং ৮ জন সম্পাদকও খরচের সঠিক হিসাব জমা দেননি বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
হিসাবের গরমিল প্রসঙ্গে জিএস সালাউদ্দিন আম্মার জানান, তাঁর কাছে আসা সব ভাউচারই জমা দেওয়া হয়েছে। বাজেট বাবদ ১৩ লাখ ৭৭ হাজার টাকার মধ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদকের ৮৫ হাজার টাকার হিসাব বাকি থাকায় পুরো অঙ্কটি পেন্ডিং দেখানো হচ্ছে। এ ছাড়া ভর্তি পরীক্ষার বুথের টাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এবং সেখানে ভ্যাট সংক্রান্ত সমন্বয়হীনতার কারণে তা ঝুলে আছে বলে দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে, রাকসুর কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সেতাউর রহমান বলেন, নিয়ম অনুযায়ী যেকোনো কর্মসূচি শেষ হওয়া মাত্রই ভাউচার জমা দেওয়া উচিত। বকেয়া ভাউচারগুলো দ্রুত সঠিক নিয়মে জমা দিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম জানান, নতুন কোনো অর্থ বরাদ্দের আগে পূর্বের গৃহীত অর্থ সমন্বয় (অ্যাডজাস্ট) করাই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম। রাজশাহী ফিরে কোষাধ্যক্ষের মাধ্যমে বিষয়টি কঠোরভাবে মনিটরিং করা হবে এবং দ্রুত বকেয়া হিসাবের সমন্বয় নিশ্চিত করা হবে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত রাকসু নির্বাচনে ২৩টি পদের মধ্যে ২০টিতেই শিবির সমর্থিত প্যানেল জয়লাভ করে। তবে জিএস, ক্রীড়া এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে অন্য প্যানেলের প্রার্থীরা বিজয়ী হন।