সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

নেপালে আকস্মিক বন্যায় প্রাণহানি ৪৭০ ছাড়াল, নিখোঁজ সহস্রাধিক

নেপালের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী জেলা রাসায়ায় ভোতি কোশি নদীর পানি অস্বাভাবিক বৃদ্ধির জেরে সৃষ্টি হওয়া ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গত বুধবার (২৬

নেপালের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী জেলা রাসায়ায় ভোতি কোশি নদীর পানি অস্বাভাবিক বৃদ্ধির জেরে সৃষ্টি হওয়া ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গত বুধবার (২৬ আগস্ট) নেমে আসা এই দুর্যোগে এ পর্যন্ত ৪৭২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও এক হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, যার মধ্যে অর্ধশতাধিক বিদেশি নাগরিক রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে নেপাল পুলিশ।

এই আকস্মিক বন্যা নেপালের পাশাপাশি সীমান্তের অপর পাশে তিব্বতের গিরং জেলায় মারাত্মক আঘাত হেনেছে। পাহাড়ি ধস ও নদীর পানির সঙ্গে ভেসে আসা লাখ লাখ টন কাদা, পাথর ও জঞ্জালের নিচে চাপা পড়েছে দু’দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা। নেপাল ও চীনের সরকারি দেওয়া তথ্যানুযায়ী, বন্যায় দুই দেশ মিলিয়ে অন্তত ১ হাজার ৩৮৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন। এর মধ্যে নেপালে ৮২৬ জন এবং তিব্বতে ৫৫৮ জন। নিখোঁজদের মধ্যে নেপালে ৫০০ জন এবং তিব্বতে ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন।

উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতায় নেপালের সামরিক বাহিনী হেলিকপ্টার ব্যবহার করছে। দুর্গম ও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া এলাকাগুলোতে জরুরি খাদ্য ও ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে। জরুরি সেবা কর্মীরা নিখোঁজদের সন্ধান এবং উদ্ধারকৃতদের সৎকারের ব্যবস্থা করছেন।

বন্যাদুর্গত রাসুয়া থেকে আকাশপথে উদ্ধার হওয়া দিবগা তামাং নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা তাঁর স্বজন হারানোর আকুতি প্রকাশ করে বলেন, আমার পরিবার, আপনজন বলতে আর কেউ বেঁচে নেই। সব কিছু শেষ হয়ে গেছে।

পরিস্থিতি মোকাবেলায় স্থানীয় প্রশাসন ও সেনাবাহিনী উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছে। তবে কাদা ও ধ্বংসস্তূপের কারণে নিখোঁজদের সন্ধানে বেগ পেতে হচ্ছে উদ্ধারকারীদের।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন