জাতীয় সংসদে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট, ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে কটাক্ষ করে রুমিন ফারহানা বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ব্যাপারে দুষ্টু লোকেরা বলে—‘টুকু আসে, টুকু যায়। এই আসে আর যায়, কিন্তু কতক্ষণ থাকে মানুষ তা বুঝতে পারে না। তিনি অভিযোগ করেন, একদিকে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে, অন্যদিকে বিদ্যুতের হাহাকার ও গ্যাসের তীব্র সংকট চলছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সমালোচনা করে রুমিন ফারহানা ব্যঙ্গাত্মক কণ্ঠে বলেন, বাংলাদেশে পররাষ্ট্রমন্ত্রী যেমন তিনজন আছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যে অবস্থা তাতে ৬৪ জেলায় ৬৪ জন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকলেও মন্দ হতো না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে প্রশ্ন এড়াতে বাক্চাতুর্য বা ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য ব্যবহার করেন বলেও তিনি অভিযোগ তোলেন।
বাজারের অনিয়ন্ত্রণ ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে তিনি আরও বলেন, বাজারে গিয়ে সাধারণ মানুষ চরম অস্বস্তিতে পড়ছে। ৮০ টাকার নিচে কোনো সবজি পাওয়া যাচ্ছে না, এমনকি চাল ও ডিমের দামও সাধারণের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। টিসিবির পণ্যের পেছনে দীর্ঘ লাইনই জনগণের দুর্গতির বাস্তব চিত্র।
একই সঙ্গে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, সরকার এক কোটি নতুন কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, অথচ বর্তমানে ৬২ হাজার মানুষ চাকরি হারিয়েছেন এবং ৯০০টির বেশি কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। নতুন চাকরি তো দূরের কথা, বিদ্যমান চাকরি কতদিন টিকে থাকবে তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, উক্ত অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের একটি বক্তব্য কেন্দ্র করে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের মধ্যে হট্টগোল শুরু হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্পিকারকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।