যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে বদলি, নিয়োগ ও পদোন্নতি এবং কেনাকাটায় সিন্ডিকেট করে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ চার জনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুদকের উপ-পরিচালক আকতারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অনুসন্ধানের তালিকায় থাকা অন্য তিন কর্মকর্তা হলেন— যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্মসচিব শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন এবং যুব-১ শাখার উপসচিব মো. মাসুম আহমেদ।
দুদক সূত্রের প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার ‘চলতি দায়িত্ব’ বাতিল ও পদায়নের আদেশের বিনিময়ে ৭৬ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি প্রদান এবং পছন্দের জায়গায় পদায়নের জন্য দেড় কোটি টাকাসহ সর্বমোট দুই কোটি টাকারও বেশি ঘুষ লেনদেনের প্রাথমিক প্রমাণ কমিশনের নথিতে উঠে এসেছে।
মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক বদলি ও পদোন্নতির পাশাপাশি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বিভিন্ন কেনাকাটা ও টেন্ডার নিয়ন্ত্রণে এক শক্তিশালী ‘সিন্ডিকেট’ গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। এই সিন্ডিকেটে ঢাকা, বগুড়া, বরিশাল, পাবনা, ধামরাই ও নরসিংদীর বিভিন্ন যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা যুক্ত ছিলেন বলে দুদক সূত্রে জানা গেছে।
অভিযোগের সুষ্ঠু ও পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধানে চার সদস্যের একটি তদন্ত টিম গঠন করেছে দুদক। দুদকের উপপরিচালক মো. জাহিদ কালামকে এই টিমের দলনেতা করা হয়েছে। টিমের অন্য সদস্যরা হলেন সহকারী পরিচালক মো. নাছরুল্লাহ হোসাইন এবং উপসহকারী পরিচালক ইমরান আকন ও রোমান উদ্দিন।
দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে পরিচালিত এই অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট পদোন্নতি-বদলির সরকারি ফাইলপত্র, ব্যাংক লেনদেন, টেন্ডার নথি এবং অভিযুক্তদের ব্যক্তিগত সম্পদের তথ্য যাচাই-বাছাই করা হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ ও বক্তব্য গ্রহণের জন্য তলব করা হতে পারে।