অনলাইনে পরিবারের একান্ত ব্যক্তিগত বিষয় ছড়িয়ে দিয়ে সামাজিক ও ব্যক্তিগতভাবে হয়রানি করার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন ডা. ফারিয়া আনজুমানের বড় বোন ফরিদা আনজুমান। সম্প্রতি এক বিবৃতিতে তিনি নিজের, তার বোনদের এবং পরিবারের পক্ষে এই ঘটনার প্রকৃত প্রেক্ষাপট ও পারিবারিক সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধের কথা তুলে ধরেন।
বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, চার বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে মেজ ভাই সাখাওয়াত হোসাইন দীর্ঘদিন ধরে বৃদ্ধ মা-বাবা এবং প্রতিবন্ধী ছোট ভাইয়ের কোনো দায়িত্ব নেননি। উল্টো ২০২৩ সালে বাবার অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে রাজধানীর জোয়ার সাহারায় অবস্থিত ছয়তলা বাড়িটি নিজের নামে হেবা দলিল করিয়ে নেন। পরবর্তীতে তার বাবা বিষয়টি জানতে পেরে নামজারি সংশোধনের মাধ্যমে সেই মালিকানা বাতিল করেন এবং সম্পত্তি দুই ছেলে ও চার বোনের মধ্যে ইসলামী আইন অনুযায়ী বণ্টনের সিদ্ধান্ত নেন।
ফরিদা আনজুমানের অভিযোগ, সম্পত্তির মালিকানা হারানোর পর সাখাওয়াত ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী শামসুন্নাহার সাথী বৃদ্ধ বাবাকে ঘরে সিসিটিভি ক্যামেরা বসিয়ে কার্যত জিম্মি করে ফেলে। আইনগতভাবে মালিকানা ফিরে পাওয়ার পর বাড়ি ভাড়ার বিষয়ে একটি সাধারণ ঘোষণাপত্রে বাবার স্বাক্ষর নেন বোন ডা. ফারিয়া। তবে সিসিটিভির সেই দৃশ্যকে সাখাওয়াতের স্ত্রী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ‘দলিলে জোরপূর্বক স্বাক্ষর’ বলে অপপ্রচার চালান। এছাড়া হাসপাতালে বাবার সঙ্গে কথোপকথনের ৩০ সেকেন্ডের একটি খণ্ডিত ভিডিও ছড়িয়ে দিয়ে ডা. ফারিয়াকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হয়।
তিনি আরও জানান, তার বোন ডা. ফারিয়ার চেম্বার, ফোন নম্বর ও ব্যক্তিগত তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দিয়ে তাদের নিরাপত্তাহীনতায় ফেলা হয়েছে। বর্তমানে তাদের বৃদ্ধ বাবাকে ঘরবন্দি করে রাখা হয়েছে এবং প্রবাসী বোনদের যোগাযোগ করতে দেওয়া হচ্ছে না।
কোনো সত্যতা যাচাই ছাড়াই একপক্ষীয়ভাবে ঘটনাটি প্রকাশ করে সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তাদের চরম সামাজিক মানহানি করেছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ফরিদা আনজুমান। তিনি এই পারিবারিক ও আইনি বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সম্মানজনকভাবে সমাধানের জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করেন।