আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে দলের নেতৃত্বের হাল শেখ রেহানা ধরছেন না; বরং দলের জ্যেষ্ঠ প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানিয়েছেন স্বয়ং শেখ হাসিনা। ভারতের সংবাদ মাধ্যম দ্য ওয়াল-এর এক্সিকিউটিভ এডিটর অমল সরকারকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা জানান।
সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনাকে উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়, এখন শেখ সেলিম সিনিয়র মোস্ট প্রেসিডিয়াম সদস্য। আমার অনুপস্থিতিতে তিনি সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। ছোট বোন শেখ রেহানার রাজনীতিতে আসার গুঞ্জন নাকচ করে তিনি বলেন, রেহানা সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত নয়।
তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভাপতির এই সিদ্ধান্তে দলের ভেতরেই আপত্তি উঠেছে। আওয়ামী লীগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, শেখ সেলিমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতিসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। তাছাড়া তাঁর বাসায় দলীয় বৈঠকের স্পর্শকাতর আলোচনা দ্রুত বাইরে চলে যাওয়ার রেকর্ডও রয়েছে।
উল্লেখ্য, শেখ সেলিমের বড় ছেলে শেখ ফজলে ফাহিম বিয়ে করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের বোন ন্যান্সি জাহারাকে এবং ছোট ছেলে ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নাঈম বিয়ে করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের মেয়ে সারাহ হাসিন মাহমুদকে।
সাক্ষাৎকারে আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করার ইচ্ছার কথা পুনর্ব্যক্ত করলেও নিজের ও সহযোগীদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আমি ফিরলে এয়ারপোর্টেও আমাকে হত্যা করতে পারে। প্রত্যেকের জীবনের ঝুঁকি আছে, আমি কাউকে বিপদে ফেলতে চাই না।
এ ছাড়া দেশে ‘জঙ্গিবাদী শক্তির’ উত্থান ঘটছে দাবি করে তিনি সতর্ক করেন, এর খেসারত ভারতকেও দিতে হবে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর ও নির্বাচন প্রসঙ্গে ভারতের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ভারত কী ভেবে এই নির্বাচন সমর্থন করল তা তারাই ভালো বলতে পারবে। বর্তমানে দেশের পরিস্থিতি নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমার তো হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়, যখন দেখছি আমার দেশ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।