সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

কারিগরি ত্রুটিতে আদানির বিদ্যুৎ উৎপাদন অর্ধেক, দেশজুড়ে বেড়েছে লোডশেডিং

কয়লা সংকট কাটিয়ে উৎপাদন স্বাভাবিক হওয়ার পথেই ভারতে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রে আবারও বড় ধরনের কারিগরি বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টার দিকে হঠাৎ একটি

কয়লা সংকট কাটিয়ে উৎপাদন স্বাভাবিক হওয়ার পথেই ভারতে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রে আবারও বড় ধরনের কারিগরি বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টার দিকে হঠাৎ একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে গেলে আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে সরবরাহ কমে ৭৫০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে আসে। ফলে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সংকট তীব্র হয়ে সারা দেশে লোডশেডিং মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।

ভারতের ঝাড়খন্ডে অবস্থিত ১,৬০০ মেগাওয়াটের এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট রয়েছে। পিডিবি ও পাওয়ার গ্রিড সূত্রের তথ্যমতে, সাম্প্রতিক ঝড়ে কয়লা সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় আগস্ট থেকেই বিদ্যুৎ উৎপাদন কমছিল। তবে পরিস্থিতি কিছুটা সামলে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উৎপাদন ১,৪০০ মেগাওয়াট ছাড়ায়। কিন্তু মধ্যরাতেই বয়লারের কারিগরি ত্রুটির কারণে একটি ইউনিট সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বয়লার ঠান্ডা করে মেরামত শেষে পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে আরও বেশ কয়েক দিন সময় লাগবে।

শুধু আদানিই নয়, দেশের সার্বিক বিদ্যুৎ খাতই এখন গভীর সংকটে। দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলোতে উৎপাদন কমেছে প্রায় ১,৫০০ মেগাওয়াট। তা ছাড়া কয়লা সংকট ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে পায়রা ও রামপালের মতো বড় কেন্দ্রগুলোও পূর্ণ সক্ষমতায় চলতে পারছে না।

জ্বালানি তেল দিয়ে উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করেও ঘাটতি মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। বৃহস্পতিবার দেশে সর্বোচ্চ ৩,৫৫৭ মেগাওয়াট লোডশেডিং রেকর্ড করা হয়, যা ছুটির দিন শুক্রবারেও আড়াই হাজার মেগাওয়াটের ওপরে ছিল। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে দেশে ১৩৬টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের বড় একটি অংশই বন্ধ বা আংশিক সচল রয়েছে, যা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন