সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

বাণিজ্য সম্পর্ক,সীমান্তে শান্তি বজায় রাখার প্রত্যয় ভারত ও চীনের

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নয়া দিল্লিতে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের মাঝে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন। বৈঠকে তারা বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়ন ও

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নয়া দিল্লিতে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের মাঝে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন। বৈঠকে তারা বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়ন ও সীমান্তে শান্তি বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছেন।

২০২০ সালে হিমালয়ের বিতর্কিত এক সীমান্তে দুপক্ষের সামরিক সংঘর্ষের পর বেইজিং ও দিল্লির সম্পর্ক তলানিতে চলে গিয়েছিল, কিন্তু উভয়পক্ষই সম্পর্ক আবার পুনর্নির্মাণের চেষ্টা করছে।

শনিবার নয়া দিল্লি জানিয়েছে, শি ও মোদী বাণিজ্য ও সড়ক সংযোগ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

এক বিবৃতিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, “এই দুই নেতা দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময়, ব্যবসায়িক সংযোগ বৃদ্ধি এবং অধিকতর অবাধ চলাচলের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।

“অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তারা একে অপরের উদ্বেগের বিষয়গুলো সমাধানের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন। এগুলোর মধ্যে আছে কাঠামোগত বাণিজ্যিক ভারসাম্যহীনতা ও সরবরাহ শৃঙ্খল সংক্রান্ত সমস্যা এবং বাজারে প্রবেশাধিকারের অর্থবহ ও পূর্বাভাসযোগ্য সুবিধা প্রদান।”

চীনের শুল্ক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বেড়ে রেকর্ড ১৫ হাজার ৫৬০ কোটি ডলারে পৌঁছে। ভারতের আমদানির বৃহত্তম উৎস হয়ে উঠেছে চীন। ২০২৫/২৬ অর্থ বছরে চীন থেকে ভারতের আমদানি বৃদ্ধি পায় ১৩ হাজার ২০০ কোটি ডলার।

এর তুলনায় চীনে ভারতের রপ্তানি অনেক কম। এর ফলে নয়া দিল্লির বাণিজ্য ঘাটতি ১০ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি।

চীনের বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, শি বলেছেন, চীন সবসময় চীন-ভারত সম্পর্ককে কৌশলগত ও দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে এসেছে এবং এর বিকাশ ঘটিয়েছে।

শি আরও বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে প্রতিষ্ঠানিক আদান-প্রদান ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে, সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলোর তালিকা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।

১৯৬২ সালে চীন ও ভারতের মধ্যে সংক্ষিপ্ত কিন্তু ধ্বংসাত্মক সীমান্ত যুদ্ধ হয়, এরপর ২০২০ সালে লাদাখ সীমান্তে দুই দেশের সীমান্ত সংঘর্ষে ২০ ভারতীয় ও চার চীনা সেনা নিহত হওয়ার পর দুদেশের সম্পর্ক ফের তলানিতে নেমে যায়।

২০২৪ সালে শি ও মোদী হিমালয়ের পশ্চিমাঞ্চলীয় সীমান্তে তাদের সামরিক বাহিনীর মুখোমুখি অবস্থানের অবসান ঘটানোর বিষয়ে সম্মত হলে সম্পর্ক আবার স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

পারমাণবিক শক্তিধর এই দুই দেশের মধ্যে প্রায় ৩৮০০ কিলোমিটার সীমান্ত আছে, যার অধিকাংশই অচিহ্নিত।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন