সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব যাচ্ছে বিদেশি অপারেটরের হাতে

দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি অপারেটরের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। শ্রমিক সংগঠনগুলোর তীব্র বিরোধিতা ও আন্দোলনের

দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি অপারেটরের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। শ্রমিক সংগঠনগুলোর তীব্র বিরোধিতা ও আন্দোলনের মধ্যেই এসংক্রান্ত একটি খসড়া চুক্তি অনুমোদন করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এনসিটির দায়িত্ব আন্তর্জাতিক অপারেটরের কাছে হস্তান্তরসংক্রান্ত খসড়া চুক্তি অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। তবে বিজ্ঞপ্তিতে নির্দিষ্ট কোনো বিদেশি কোম্পানির নাম প্রকাশ করা হয়নি। অবশ্য শুরু থেকেই দুবাইভিত্তিক আন্তর্জাতিক অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের মোট চারটি কন্টেইনার টার্মিনালের মধ্যে নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ। গত বছর বন্দরে মোট হ্যান্ডলিং হওয়া কন্টেইনারের ৪৪ শতাংশই সম্পন্ন হয়েছে এই এনসিটিতে। ২০২৪ সালের ৭ জুলাই থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম ড্রাইডক লিমিটেড (সিডিডিএল) এটি পরিচালনা করে আসছিল এবং তাদের অধীনে কন্টেইনার হ্যান্ডলিং ধারাবাহিকভাবে বাড়ছিল।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে জিটুজি (জিটুজি) ও পিপিপি কাঠামোর অধীনে ডিপি ওয়ার্ল্ডকে টার্মিনালটি ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, তবে তা চূড়ান্তে পৌঁছায়নি। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতার পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই কার্যক্রম পুনরায় শুরু করে। তবে শ্রমিক আন্দোলন ও নানা পর্যালোচনার মুখে চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি ইজারা কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।

পরবর্তীতে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে গত ৪ জুন দুবাইভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয়। এর প্রেক্ষিতে বন্দর কর্তৃপক্ষ একটি ১২ সদস্যের সাপোর্ট টিম গঠন করে এবং দেশের স্বার্থ অক্ষুণ্ন রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেয়।

সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই চট্টগ্রামের একাধিক শ্রমিক সংগঠন মানববন্ধন, সমাবেশ ও আন্দোলন কর্মসূচি পালন করে আসছে।

চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের নেতাদের মতে, এনসিটি বহুজাতিক কোনো কোম্পানিকে ইজারা দিলে সরকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হবে এবং দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বাইরে চলে যাবে। এছাড়া ‘কনসেশন’ চুক্তির সুবাদে বিপজ্জনক পণ্য খালাসের ঝুঁকিও তৈরি হবে।

চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এনসিটি বিদেশিদের হাতে তুলে দিলে বন্দর যেমন আর্থিক লোকসান ও দক্ষ কর্মশক্তি হারাবে, তেমনি বাংলাদেশ ভূ-রাজনৈতিকভাবেও বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। পাশাপাশি চট্টগ্রামের শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) মনে করে, এটি জাতীয় অর্থনৈতিক স্বার্থ, স্থানীয় কর্মসংস্থান এবং বন্দরের ওপর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন