সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

বাড়িকে ‘কবরস্থান ঘোষণা’ করে পথ বন্ধ করে জামায়াত নেতা

চাঁদপুরের মতলব উত্তরের গাজিরগাছখোলা গ্রামে সৌদি আরবপ্রবাসী মামুন মোল্লার বসতবাড়িতে যাতায়াতের পথে বাঁশের বেড়া দিয়ে অবরুদ্ধ করার অভিযোগ উঠেছে জামায়াত নেতা ও ছেংগারচর পৌরসভার মেয়র

চাঁদপুরের মতলব উত্তরের গাজিরগাছখোলা গ্রামে সৌদি আরবপ্রবাসী মামুন মোল্লার বসতবাড়িতে যাতায়াতের পথে বাঁশের বেড়া দিয়ে অবরুদ্ধ করার অভিযোগ উঠেছে জামায়াত নেতা ও ছেংগারচর পৌরসভার মেয়র প্রার্থী আবদুল হাই শিকদারের বিরুদ্ধে। ওই জমিকে নিজ দাবি করে জামায়াত নেতা একে ‘কবরস্থান ঘোষণা’ দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছেন বলে ভুক্তভোগী পরিবার জানিয়েছে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে যাতায়াতের পথ উন্মুক্ত করা এবং স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করার দাবিতে ভুক্তভোগী প্রবাসী পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী যৌথভাবে মানববন্ধনের আয়োজন করেন।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া প্রবাসীর স্ত্রী আঁখি আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে অভিযোগ করেন, আমার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে কঠোর পরিশ্রম করে টাকা উপার্জন করে এই বসতবাড়িটি নির্মাণ করেছেন। সম্প্রতি বাড়ির সামনের মূল প্রবেশদ্বারে গেট নির্মাণের উদ্যোগ নিলে আবদুল হাই শিকদার সেখানে বাঁশের বেড়া দিয়ে আমাদের যাতায়াতের পথ পুরোপুরি বন্ধ করে দেন। বাড়িতে কোনো বয়স্ক পুরুষ না থাকায় আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতা ও অবরুদ্ধ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছি।

তিনি আরও জানান, যাতায়াতের পথ বন্ধ হওয়ায় তাঁর সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া সন্তান সাইকেল নিয়ে বাড়ি থেকে বের হতে পারছে না। ফলে প্রতিদিন প্রায় দুই কিলোমিটার দুর্গম পথ হেঁটে তাকে স্কুল ও কোচিংয়ে যেতে হচ্ছে।

এদিকে অভিযুক্ত জামায়াত নেতা আবদুল হাই শিকদার রাস্তা বন্ধের বিষয়টি স্বীকার করে দাবি করেন, উক্ত জমিটি আমার নিজস্ব সম্পত্তি এবং সেখানে আমাদের পারিবারিক কবরস্থান রয়েছে। কবরস্থানের নিরাপত্তা ও পবিত্রতা রক্ষার স্বার্থেই চারপাশে বাঁশের বেড়া দেওয়া হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মানস বড়ুয়া জানান, বিষয়টি সম্পর্কে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চলাচলের পথ কিংবা জমি সংক্রান্ত কোনো বিরোধ থাকলে তা আইনি প্রক্রিয়ায় সমাধান করা হবে। আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে বা আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন